শিশুর বয়ঃসন্ধির কেন্দ্র প্রসার বলয় অবস্থান

শিশুর বয়ঃসন্ধির কেন্দ্র প্রসার বলয় অবস্থান – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর মন ও শিক্ষা” সিরিজের “বয়ঃসন্ধি সমস্যা ” নিয়ে আজকের আলোচনা। বয়ঃসন্ধির ধান ভানতে আমরা মা-বাবা-অভিভাবকদের, শিবের, গান নিয়ে সময় কাটালাম। শিব মঙ্গলের প্রতীক; আমাদের আলোচনায় মা-বাবা-অভিভাবকরাও শুধুমাত্র প্রতীক নয়, প্রদীপও বটেন। তাই। মা-বাবা মঙ্গলের উৎস, আলোরও উৎস। ওঁরা শিল্পী— সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার, দৃষ্টিদানের, এক তাল সুপ্ত সম্ভাবনাকে ধীর স্থির দূরদর্শিতায় বাস্তবায়নের। আমরা পরে দেখার সুযোগ পাবো যে এরা জীবন গুরু (মডেল), সন্তানের ভাল-মন্দের গুরুও বটে গোঁসাইও বটে, গুরুতর দায়িত্বের ধারক, বাহক ও পোষক।

বয়ঃসন্ধির কেন্দ্র প্রসার বলয় অবস্থান | বয়ঃসন্ধির সমস্যা | শিশুর মন ও শিক্ষা

বয়ঃসন্ধির কেন্দ্র-প্রসার-বলয় অবস্থান : বয়ঃসন্ধির ধান ভানতে আমরা মা-বাবা-অভিভাবকদের, শিবের, গান নিয়ে সময় কাটালাম। শিব মঙ্গলের প্রতীক; আমাদের আলোচনায় মা-বাবা-অভিভাবকরাও শুধুমাত্র প্রতীক নয়, প্রদীপও বটেন। তাই। মা-বাবা মঙ্গলের উৎস, আলোরও উৎস। ওঁরা শিল্পী— সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার, দৃষ্টিদানের, এক তাল সুপ্ত সম্ভাবনাকে ধীর স্থির দূরদর্শিতায় বাস্তবায়নের। আমরা পরে দেখার সুযোগ পাবো যে এরা জীবন গুরু (মডেল), সন্তানের ভাল-মন্দের গুরুও বটে গোঁসাইও বটে, গুরুতর দায়িত্বের ধারক, বাহক ও পোষক।এখন এখানে বয়ঃসন্ধির বর্ণনায় আসা যাক : বয়ঃসন্ধি একটি সময়ের বিন্দু নয়, পরিক্রমণের বলয়, বৃত্ত।

একটি কেন্দ্র বিন্দু ভেদকারী পূর্ব ও পর অগ্রসরণের বলয় মধ্যস্থ রৈখিক অগ্রগতি। কৌশোর বা পিউবার্টির তিনটি স্তর আছে। এক, প্রাকযৌবনোদয় কাল বা প্রি-পিউবেসেন্ট স্তর। ঋতুক্ষরণের প্রথম বাস্তবতার দু’এক বছর আগে থেকে ঋতুকাল পর্যন্ত সময়কে প্রাযৌবনকাল বলা যায়। এই সময়ে আনুষঙ্গিক যৌন চিহ্নসমূহ প্রকাশ পেতে থাকে সেকেণ্ডারি সেক্স ক্যারেকটারিসটিকস্। অনাগত যৌবনের দ্রিমি দ্রিমি ঝংকারে দেহ-মন অভিব্যক্ত হয়ে উঠতে থাকে। প্রজনন প্রক্রিয়ার পূর্ণগঠন তখন শুরু হয় কিন্তু সমাপ্তি ঘটে না— ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতির পর্ব চলতে থাকে।

আলাপ। ঝালায় পৌঁছোনোর দিন অনাগত। দুই, প্রাপ্ত যৌবন কাল বা পিউবেসেন্ট স্টেজ। শৈশবের কাল হলো শেষ, এবারে ঋতুমতী কন্যা আর রেতঋদ্ধ কিশোরের যাত্রা হলো শুরু। জৈব-স্বাভাবিক কারণেই নারীদের ঋতু বা মাসিক শুরু হয়; ওরা এখন রজস্বলা, পুষ্পবতী। পুরুষ সন্তানরা এখন রেতঃ বান, বীর্যবান, শুক্র গঠন-ধারণ-নিষ্ক্রমণে সক্ষম। এরা যৌন পূর্নতায় অভিসিঞ্চিত। মেয়েদের যেমন মাসিক শুরু হয়, ছেলেদের তেমন নিশীথরেতঃপাত ঘটতে থাকে। এই সময়ে পূর্বস্তরে আরভমান আনুষঙ্গিক যৌন পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্যগুলি ক্রমশ পরিপূর্ণতায় পৌঁছোতে থাকে— প্রতিটি চিহ্নে, প্রতিটি ক্ষেত্রে।

( এখানে আগাম বলে রাখা দরকার যে মেয়েদের বেলায় এই বয়ঃসন্ধির পর্যায়গুলো ছেলেদের তুলনায় বছর দুয়েক আগে আগে ঘটে)। তিন, এই পর্যায়টি, আগে যেমন বলেছি, কেন্দ্রবিন্দু ভেদকারী পর-অগ্রসরণ, বলয়ের প্রান্ত-গতি অভিগমন। আনুষঙ্গিক যৌন আঙ্গিক গুলো সুপুষ্ট পরিপূর্ণতায় পৌঁছোয়, সার্বিক সম্পন্নতায় সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। মূল যৌন অঙ্গের পূর্ণ পুষ্টি সম্ভব করে তোলে। একটা অংকুরিত সম্ভাবনা এই তিনটি স্তরের বিন্যস্ততায় বাস্তবে রূপ পায়; কৈশোরের কিশলয় পর্ণে পরিণত হয় ।কথাগুলো আপাতদৃষ্টিতে দর্শনের এলাকাভূত মনে হতে পারে।

তা হোক। এরা কিন্তু মনোবিজ্ঞানের এলাকায় এবং আমাদের বক্ষ্যমাণ প্রেক্ষিতে অতিশয় বাস্তব— বয়ঃসন্ধির সমস্যা ও পথনির্দেশে। সমস্যা না বলে বয়ঃসন্ধির বাস্তবতা বলাই সঠিক। কারণ কোনো ঘটনাই সমস্যা নয়; সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহুবিচিত্র প্রশ্ন-বিশ্লেষণ-অনুসন্ধান, সেই ঘটনার প্রভাবে আমাদের মানসিক-সামাজিক-ব্যক্তিক মূল্যায়ন-উপলব্ধি-কর্তব্যাকর্তব্য— এই সবই সমস্যা।

তাই আমাদের জন্যে বয়ঃসন্ধির কোনো সমস্যা নেই, থাকলে তা আছে ডাক্তারবৈদ্যের জন্যে। আমাদের জন্যে আছে সন্তানদের প্রাক-কৈশোর পর্ব থেকে অনিবার্য অগ্রগমনে বয়ঃসন্ধির কেন্দ্রবিন্দু এবং ক্রমশ সেই বিন্দুটি পার হয়ে.ওদের, সন্তানদের, তারুণ্যের গন্তব্যে পৌঁছোনো। ভারুণ্য গতিশীল হয়ে যৌবনে যাবে – তবে সেই এলাকা আমাদের ‘ব্যক্তিক ও ‘পারিবারিক মনোবিদ্যা’ (এ গাইড টু প্ল্যানড ইউথ অ্যান্ড হ্যাপি ফ্যামিলি লাইফ) গ্রন্থে আলোচিত।
প্রাক্‌কৈশোর-কৈশোর-তারুণ্য। ঘটনা বা বাস্তবতা। তারই প্রভাবে জৈবমানসিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া, অবস্থান্তর, হঠাৎ-আলোর ঝলকানি-লাগা নবারুণ ইক্ষুবনের অনুভব। সন্তানদের।

Leave a Comment