বয়ঃসন্ধির সময় শিশুর যৌন বিষয়ে আগ্রহ ও কিছু তথ্য মেয়েদের বিষয়ে – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর মন ও শিক্ষা” সিরিজের “বয়ঃসন্ধি সমস্যা ” বিভাগের একটি পাঠ। আমরা এই সিরিজে বয়ঃসন্ধির সময়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলাপ করছি।
বয়ঃসন্ধির সময় শিশুর যৌন বিষয়ে আগ্রহ ও কিছু তথ্য মেয়েদের বিষয়ে | বয়ঃসন্ধির সমস্যা | শিশুর মন ও শিক্ষা
১. নারী জীবনের তিনটি স্তর আছে—
ক) জন্ম থেকে বয়ঃসন্ধির বিন্দু-সময় পর্যন্ত
খ) সন্তান ধারণক্ষম সময় বা ক্রিয়াশীল গর্ভাশয়-সময় ডিম্বক বা ওভাম তৈরি ও সঞ্চালন সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। আনুমানিক ৪৫/৫০ বছর।
গ) মেনোপজ বা অক্রিয়াশীল, ডিম্ব-সৃষ্টিতে অক্ষম সময়। ৪৫/৫০ বছর থেকে। এই স্তরবিন্যাস ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন হয় এবং এদের প্রভাবও ভিন্ন ভিন্ন কারণের প্রভাবে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই কারণগুলি সামাজিক-কৃষ্টিয়-সংস্কারের, এবং মনোবিজ্ঞানের আলোচনার এলাকায় পড়ে।
প্রথম মাসিক বা ঋতুমতী হওয়া থেকে বয়ঃসন্ধির শুরু। এণ্ডোক্রিন গ্রন্থির ক্রিয়াকলাপ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। তার ফলে প্রাথমিক যৌন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক যৌন বৈশিষ্ট্যসকল প্রকাশ পেতে থাকে। আগেই বলা হয়েছে। প্রথমদিকে মাসিক হওয়াটা যেমন সময়-অসময়ে ঘটে, মেনোপজের সময়ে— অবসিতির সময়েও তেমনি অনিয়মিত হতে হতে একসময়ে বন্ধ হয়ে যায়।
মাসিক কেন হয় ? কেন একে ‘জৈব বিফলতা’— বায়োলজিক্যাল ফেইলিওর বলা হয়?
এর যথাযথ উত্তরে অনেক অকারণ সংস্কার বা মিথ্যার অবসান সম্ভব। সহজবোধ্য করে বললে দাঁড়ায় : পিট্যুটারি গ্ল্যাণ্ড বা মাষ্টার গ্ল্যাণ্ডের হরমোন ক্ষরণের ফলে প্রতি ২৮ দিনের একটি সময়চক্র তৈরি হয়। একে ওভারিয়ান সাইক্ল বা গর্ভ-চক্র বলা যাক। এক পাশের একটি ওভারি থেকে একটি তৈরি ডিম বা ওভাম নিসৃত হয়। সে অপেক্ষা করে থাকে পুরুষের উৎসে অনুপ্রবিষ্ট স্পার্মের। এই অনুপ্রবেশ ঘটে অত্যন্ত ঘনিষ্ট জৈব সংযোগে। পুরুষের শিশু- ছিদ্রপথে প্রক্ষিপ্ত শুক্রাণু প্রবেশ করে নারীর যোনিঅঙ্গের মধ্যপথে জরায়ুর ভিতর। তাই লিঙ্গটি যোনি মধ্যে স্থাপিত না হলে শুক্রের প্রবাহ অব্যর্থ হয় না। এখানেই সেই প্রাসঙ্গিক কথাটা বলা থাক : যৌন উপভোগে নারী এবং পুরুষ সমান।
কিন্তু দুর্ভোগের চূড়ান্ত ঘটে নারীর কপালেই। তাই যদি একটা ‘না’ বলতেই হয় তাহলে সেই No-টির জন্যে এটাই শেষ ধাপ। সর্বশেষ ধাপ। এই ‘অনুপ্রবেশ’ পর্বটিই সর্বনাশের কারণ। আগ্রহ বা নেশা যতো তীব্রই হোক না কেন না-টি যেন বজ্রের মতোই কঠিন এবং তীব্র থাকে। (আধুনিক সমাজ কিছু ভোগী ও যোগী তৈরি করে চলেছে। তাদের জন্যে আধুনিকতা অনেক ব্যবস্থাদিও যোগান দিচ্ছে। তাদের কথা স্বতন্ত্র। তাদের ভোগ-দুর্ভোগ-উপভোগও আলাদা। সময়ের আগেই যেন দুঃসময় চেপে না ধরে এটা কিন্তু সকলে মনে করে।
হুঁশিয়ারির প্রয়োজনও সেই জন্যে।) যদি তেমন অব্যর্থ বা সার্থক মিলন ঘটে তাহলে তৎক্ষণাৎ জীবনের— একটি নবজীবনের যাত্রা- চলন হবে শুরু। যদি ব্যর্থ হয় তাহলে সেই ব্যর্থতাই ২৮ দিনের শেষে গর্ভাশয়-গর্ভগৃহের যাবতীয় প্রস্তুতির সবটাকেই বাতিল করে দেবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ধুয়েমুছে পরের বারের জন্যে আর একবার উঠেপড়ে লাগবে। আবার ঘর সাজাবে। অবশ্যই সেই পিট্যুটারি গ্রন্থির নির্দেশে-পরিচালনায়। অনাগত সেই নবজাতকের গর্ভজন্মের প্রাক্কালে তার জন্যে যে এলাহি এবং সার্বিক যোগান-ব্যবস্থা ছিল সেটার সবটাই বিফলতার মার খেয়ে মাসিকের আকার নিয়ে বেরিয়ে যাবে।
এটা একটা প্রাকৃতিক-স্বাভাবিক ঘটনা। নারী অস্তিত্বের অ-নিবার্য সহগ। এর চাইতে বেশিও নয়, কমও নয়। অন্য কিছুও নয়। ওভাম বা ডিম্ব সৃষ্টি হয় চতুর্দশতম দিনে। ব্যতিক্রমী মাসিকের বেলায় অন্য হিসেবের ব্যবস্থা আছে। গর্ভনিরোধের বেলায় তাই ছন্দ-পদ্ধতি বা মুক্ত-সময়-পদ্ধতি বলে কথা আছে। ১৪তম দিনকে মধ্যবিন্দু দিন ধরে তিন দিন আগে ও তিন দিন পরে— এই সাত দিন ‘অ- রন্ধন’— যৌন সম্ভোগ বাদ দিলে সন্তান হবে না। সাধারণত।
বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই সকল নারী যদি একটা মাসিকের ডায়রি রাখে এবং সেখানে ,২,৩….. করে তার শরীর মনের অবস্থাদি লিপিবদ্ধ করে রাখে তাহলে অনেক সুফল সারাজীবনের সংগ্রহ হয়ে সাহায্য করবে। ৮) দৃশ্যধারণাগঠনে সহায়ক হবে এমন দুটি ছবি দেওয়া হলো-
মাতৃত্ব নারীর দীর্ঘমেয়াদি জৈব সামাজিক দায় ও দায়াত্ত। এক অর্থে বাসাটি নারীর, ধারণটি এবং প্রসবাত্ত মুক্তি বা প্রাপ্তিটি নারীর জৈবসম্মত অবদান। পুরুষের পক্ষে তাই কোকিল হওয়া সম্ভব— কাব্যের নয়, ডিম্ব রক্ষা ও সন্তান পাওয়ার বেলায়। এই জৈব শারীরিক সত্যের মর্ম এবং মর্মযাতনার ব্যপারটি তাই বিচার করার মতো, জেনে রাখার মতো। সময়কালে স্মরণ রাখার মতো। আমাদের আলোচ্য এলাকা তারুণ্যাত্ত সীমায় সীমিত। তাই এই কাক ও কোকিল ”বিষয়ে আরও দুচারটি কথা— জৈব্য তথ্য নয়, সামাজিক সত্য— বলতে চাই। ক) ইংরেজিতে একটি কবিতার চরণ আছে— ডার্ক ডিস্ আর বেটার ডান ইন দ্য ডার্ক।
অন্ধকারাছন্ন কাজ অন্ধকারেই সহজতর। অন্ধকার নৈকট্য এড়িয়ে চলা সম্ভাব্য দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচার বা দূরে থাকার সহজতম পথ। নিষিদ্ধ ফলের বাসনা বা আকাঙ্ক্ষা সিদ্ধ ফলোদয় ঘটায় না। সালোকিত সান্নিধ্য সুখজ, আনন্দজ এবং অধিকন্তু, নির্মল। আলো অশার জন্ম দেয়, অন্ধকার লোভের। লোভে পাপ……..। সব লোভ নৈতিক নয়। খ) শূন্যগৃহ, ফাঁকা আস্তানা, অত্যল্প জনঅধ্যুষিত বহুকক্ষগৃহ— লোভীদের পীঠস্থান, ‘কাক’দের স্বর্গস্থান এবং জৈব-কুফল- ধারক-বাহকদের পক্ষে গোরস্থান, যৌন ল্যাঙ্ বয়ঃসন্ধির সমস্যা মারার / খাওয়ার সাক্ষ্যপ্রমাণহীন সংবেদন চুল্লি! শূন্যমস্তিষ্ক কুচক্রীর কর্মশালা— ডেভিলস্ ওয়ার্কশপ।
শূন্য মন শয়তানের আখড়া। মন মাথা খালি থাকলে যৌন আক্রমণে নরক গুলজার। সুতরাং এদের একটিকেও ফাঁকা রাখতে নেই। বই পড়া, ছবি আঁকা, কাটুম কুটুম বানানো অথবা শেখা বা ক্যাসেট। দড়ি ছেড়ে দিতে নেই— নেশায় ধরে নেবে তারে। নেশা না করার প্রধান উপায় সেই নেশায় পা না গলানো, মাথা-মনকে সময় ও সুযোগ না দেওয়া।
প্রায়ান্ধকার নৈশভোজনে সহকামী ভিড়ের একাকিত্ব উত্তেজক অ্যাডভান্সের পরিপোষক। ঢিলেঢালা নৈতিকতার অবশ বিবশ মানসিকতা শিকার-শিকারি চেতনার জন্ম দিতে পারে।
বিলম্বিত নিশি প্রত্যাগমন একটি পিছল প্রক্রিয়া। ভয়াবহও হতে পারে। উপভোগ সকলেই চায়। ভোগ অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভোগের কারণ। ভোগ ক্ষণস্থায়ী, উপভোগ দীর্ঘ জীবনের প্রেক্ষিতে অর্জনেয়। সেনস্ থাকাটা দুর্বলের (নারীর) পক্ষে রক্ষাকবচ; সবল (পুরুষ) সর্বদা-সর্বত্রই সেনসুয়াস্ ।
বাল্য-কৈশোরের যৌন নির্যাতন :
পরিসংখ্যান বলছে যে শৈশব বালো বালিকারা এবং কিশোরীরা যৌন নির্যাতনের, শোষণের এবং ব্যভিচারের শিকার হয়ে থাকে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। দেখা যায় (ক)
(১) পরিবারের আপন জনেরা— কাকা-জ্যেঠা-বাবা, দাদা-মেসো-পিসেরা এই ইনচেষ্ট বা রক্তসম্পর্ক-যৌন-ব্যভিচারে প্রলুব্ধ হয়। অথবা
(২) পরিবারের পরিচিত ও আপন জনেরা— গৃহশিক্ষক, ড্রাইভার, দ্বারোয়ান, গৃহভৃত্য, বাবুর্চি ইত্যাদিরা নৈকট্যের সুযোগ নিয়ে, একাত্ততার অবকাশে, নানান প্রলোভনে বালিকা-কিশোরীদের প্রতি যৌন-ব্যভিচার, নির্যাতন, বলাৎকার ইত্যাদিতে প্রবৃত্ত হয়।
(খ) বালিকা-কিশোরীরা ভয়, অজ্ঞতা এবং অবুঝ-বিশ্বাসে শিকারে পরিণত হয়।
(গ) প্রকৃত অভিভাবকরা পারিবারিক-সামাজিক বর্তমান-ভবিষ্যৎ ভেবে ধামাচাপা দিয়ে উদ্ধার পেতে চায়।
(ঘ) নির্যাতিতা-ধর্ষিতা-শোষিতারা সহানুভূতি, প্রতিকার, উপদেশের বদলে অভিভাবকদের কাছে বকুনি-ধমক-ভর্ৎসনা পায় অথবা ‘ও-কিছু-নয়’ বলে ‘ঢাক্-ঢাক্-তুচ্ছতার’ ভাষ্য পেয়ে বিমর্ষ বর্তমান আর বিধ্বংসী ভবিষ্যতের মুখে ঢলে পড়ে ট্রমা, অবদমন, বীভৎসতার চেতনার অংকুর লালন করে।
(ঙ) ধর্ষক-ব্যভিচারী-বলাৎকারী ‘আত্মীয়’-টি বয়সে, শক্তিতে এবং ক্ষমতায় নানাভাবে উচ্চস্থানে থাকে বলে ধর্ষিতা বালিকা- কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দিতে পারে; ফলে একমাত্র উৎকণ্ঠা, ত্রাস, আতঙ্ক ও বিহ্বলতাকে সম্বল করে সে এক অস্থির ভবিষ্যতের মুখে পড়ে যায়।
এই গ্রন্থটি প্রধানত কৈশোরের এবং অভিভাবকদের জন্যে প্রকাশিত। তাই তিনটি বিষয় বলতেই হচ্ছে। এক, কিশোর-কিশোরী তরুণ-তরুণীরা বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়বে।
অনেক কথা সংক্ষেপে বলা আছে। তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা নিজেরা সম্পূর্ণ না বুঝলে বড়োরা বলে বুঝিয়ে দেবেন । দুই যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও বলাৎকারের কোনো বয়সের প্রারম্ভিক সীমা নেই। তাই শিশুসন্তানদের এবং ছোট ছোট বোনেদের যথাসম্ভব – যথা সম্ভব – সচেতন করে তোলার দায় অভিভাবকদের এবং দাদা-দিদিদের। তার সঙ্গে নিজেরা বুঝতে পারলে সম্ভাব্য ধর্ষণ-ইত্যাদির-উৎস বিষয়ে সচেতন থেকে শিশুদের রক্ষা করবে/করবেন। তিন, শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ বিষয়ে বিশেষ সংবেদনশীলতার কথা— বয়স অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতে হবে। শৈশবে কোনো অঙ্গই ‘যৌন’ নয়; কৈশোরের অনেক অঙ্গই যৌন অঙ্গে রূপান্তরিত হয়।
প্রাথমিক (প্রাইমারি) এবং মাধ্যমিক (সেকেণ্ডারি)। প্রজনন অঙ্গ বা ভ্যাজাইনা শৈশবে একটি জৈব অঙ্গ মাত্র কিন্তু কৈশোর-উত্তর জীবনে সেটি প্রাথমিক যৌন অঙ্গ। ঠিক তেমনি বলে দিতে হবে যে ঠোঁট, বুক, নিতম্ব (পাছা), জঙ্ঘা (উরত), গুহ্যদ্বার, কপোল (গাল, গণ্ডদেশ) এরা সেকেণ্ডারি সেক্স কেন্দ্র।
এই মাধ্যমিক যৌন এলাকাগুলি জানা থাকলে (জানানো থাকলে) প্রথম রাতেই বিড়াল ধরা পড়বে! যাদের কথা (ক) এর (১) এবং (২)-এ বলা আছে তারা যৌন মতলবে এই সব মাধ্যমিক এলাকায় প্রথম অভিযান চালাবে— বুঝে নেবার জন্যে, জল মাপার জন্যে! সুতরাং টের পেলেই, প্রথম প্রেচেষ্টার সর্পিল মতলবকে জানলেই বালিকা-কিশোরীরা ‘বিড়ালটি মেরে দিতে পারবে’, মা-বাবা-অভিভাবককে বলে দিতে পারবে।
আমরা বলেছি ‘বলে দিতে পারবে’। পারবে তখনই যখন বলে দেবার মতো বাতাবরণটি থাকবে, বলার এবং শোনার মতো একজোড়া অন্তত বিশ্বাসী কান থাকবে। তাই এই বাতাবরণটি যেন থাকে। এই বিশ্বাসযোগ্য একজোড়া কান যেন অন্তত ওদের— ওই শিশু, বালিকা, কিশোরীদের জন্যে— থাকে। এটা মা-বাবার দায়, দাদা-দিদিদের দায়।
শৈশব-বালো শারীরিক মানসিক ক্ষতির সম্ভবনা। কিন্তু কিশোরী-তরুণীদের বেলায় সর্বনাশের আর একটা মাত্রা যোগ হতে পারে— জৈব ক্ষতি। ঋতুমতী কন্যাদের বেলায় বলাৎকার যৌন প্রজনন গতি হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভসঞ্চার করে বসতে পারে। এ বিষয়ে কিশোরী তরুণীদের অত্যন্ত সংবেদনশীল জ্ঞান ও প্রতিরোধ মানসটি তৈরি থাকা চাই।
বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে অন্য একটি মাত্রা— মনোবৈজ্ঞানিক এবং যৌন-গ্রন্থি- নিঃসরণ-জনিত মধুর সংবেদনের দেহ-সংগীতটি। শিশুদের বেলায় এ দুয়ের সম্ভাবনা নেই— ওদের যৌন মানসিকতা নেই এবং যৌন-গ্রন্থি ঘুমিয়ে থাকে বলে সেই ঝনঝনানিও নেই। কিশোরী তরুণীদের বেলায় দুইই উপস্থিত। এবং উপরের (ক) অংশের (১) এবং (২)-এ যাদের কথা বলা হয়েছে তারা কেউই ডাকাতি করেনা, চুরি করতে চায়। সাপের মত ধীরে ধীরে কিশোরী-তরুণীদের মনে সুড়সুড়ি দিতে থাকে, দেহে মৃদুমধুর বাদ্য-ঝংকার তুলে তুলে বয়ঃসন্ধির সমস্যা
সম্ভাবা শিকারকে বংশীবাদকের নেশাগ্রস্ততার টানে, অবশ বিবশ করে তোলে। সাপের মুর্খগহ্বরে ব্যাঙ্ তখন নির্বাধ প্রবেশ করে, ঝংকৃত দেহের ভালবাদ্যে বিমোহিত হয়ে। শিকারি সকল মাধ্যমিক যৌন অংগের মৃদু মৃদু থেকে তীব্র তীব্র ব্যবহার করে, শিকারের যৌন গ্র্যাণ্ডগুলি তখন শিকারকে হাট করে খুলে মেলে ধরে। প্রাথমিক যৌন অঙ্গ তখন শিকারির অধিকারে। একে অপরের যৌন শৃঙ্গারে নেশাগ্রস্ত। নির্বুদ্ধি-নির্বোধ জৈব-যৌন চেতনা ছাড়া আর কিছু তখন অবশিষ্ট থাকে না। নির্বাধ সর্বনাশটি তখন আর কি দূরে থাকতে পারে। নিষিদ্ধ বিষ পান করে (যৌন সংগম শেষ করে)। শিকার ভবিষ্যতের আত্মহত্যার কড়ি গোণে; বিষ পান করিয়ে শিকারি তখন কোকিল হতে চায়, উড়ে যেতে চায়।
এটুকু বিস্তারিত করে বর্ণনা করার উদ্দেশ্য এই যে সম্ভাব্য ভিকটিমদের— কিশোরীদের— জানিয়ে দেওয়া কোথায় বাধা দিতে হবে। প্রথম ব্রেকটি কখন দিতে হবে। এবং বুঝিয়ে দেওয়া যে সময়ে ব্রেক না দিলে ক্রমশই দেরি হয়ে যাবে। যে কোনো নেশার কাজেই একটি ‘প্রথম অবস্থা’ বা ‘প্রথম বার’ থাকে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ তাই প্রথম ধাপেই হওয়া উচিত। শিকারির মনের সুপ্ত উদ্দেশ্যটি তখন প্রকাশ হয়ে পড়বে যখন সে ১. কোনো না কোনো মাধ্যমিক যৌন অঙ্গে স্পর্শ করবে। ২. একান্ত ও অন্ধকার কোণ খুঁজবে। ৩. ফিফিস্ করে কথা বলবে। ৪. অকারণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত নৈকট্য দেখাবে— গোপনে উপহার দিতে চাইবে। সিনেমা-থিয়েটার-গঙ্গার ধারে নিয়ে যেতে চাইবে।
মা বাবা বাড়ি নেই এমন সময় না-জানার ভান করে আসবে। ইত্যাদি। ইনচেষ্ট-এর বেলায়, রক্তসম্পর্কের শিকারির বেলায়, এ-সবই থাকবে কিন্তু শিকারের নিজ নিজ ‘এনটিনা’ বা ‘এরিয়াল’-টি বলে দেবে কোনটা নৈকট্যের মনোহর ভালবাসা আর কোনটাই বা ব্যভিচারের মর্দন। মাধ্যমিক যৌন অঙ্গগুলি সেই এনটিনা-এরিয়ালের কাজ করবে। যৌনতা অপরাধ। যৌন ব্যবহার যখন আমাদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রেম-ভালবাসার
জৈবমানসিক উপাদান তখন তা অপরাধ নয়। সে তখন সুসময়ের সঙ্গী।
কৈশোর-তারুণ্য সুন্দরের আবাহনের সময়, প্রস্ফুটনের কাল। প্রস্তুতিটিই মূল কথা। রমণীয় ও মনোরম। সেই সুন্দরকে অকালে দলিত-মথিত-পীড়িত হতে দেওয়াটা না সুন্দর না মনোরম। না কাঙ্ক্ষিত না প্রার্থিত। সময় যখন আসে তখনই সময় যেন আসে; / সময়ের আগে দুঃসময়ের আবাহন, শুধু শুধু ডেকে আনে ত্রাসে!
অন্য অনেক তথ্য আছে, সে সব জানার আগ্রহও স্বাভাবিক। তবে এখন সে সব না জানলেও চলবে। সে সব জীবনের কথা যৌবনের কথা। (‘ব্যক্তিক ও পারিবারিক মনোবিদ্যা’ গ্রন্থে আলোচিত।) সময় হতে হতে অনেক সব জানা হয়ে যাবে। সময়ের আগে সময় এগিয়ে এলে তাকে বলে ‘পাকা’: সময়ের পরে সময় এলে তাকে বলে ‘বোকা’। প্রেম-ভালবাসা অংশে বিস্তারিত ও কাব্য-বাস্তব দৃষ্টিতে আলোচনা করা যাবে। এখানে আগাম একটি কথা বলে রাখা যাক্ 88
প্রেম-ভালবাসার বদলে বন্ধু-সখা / বান্ধবী-সখী করে নিলে আনন্দ-বিপদের ° ঘটে যাবে। ইনোকুলেশন— যে রোগ ভয়াবহ তারই স্বল্পতম পরিমাণ শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে দেহাভ্যন্তরে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থাটি জোরদার হয়ে রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হয়। প্রেমভালবাসার যে অংশ রোগাক্রান্ততার সম্ভাবনায় পিছল, অর্থাৎ যৌন অংশ, তাকে বন্ধুত্বের বর্ম পরালে নির্ভয় হওয়া যায়। আবার নৈকট্যের মাধুর্য ও কাব্যময়তাও মার খায় না।
ঝোঁকটি দৈহিক নৈকট্যের কি মানসিক কাব্যময়তার তা পরিষ্কার চেনা-বোঝা যায়। বন্ধুত্বের কোনো লিঙ্গভেদ নেই, যৌন চেতনা নেই। সুতরাং দৈহিক ‘কাব্যময়তার’ অনেকাংশই অকারণ হয়ে পড়ে।
