বয়ঃসন্ধির সময় শিশুর যৌন বিষয়ে আগ্রহ ও কিছু তথ্য ছেলেদের বিষয়ে – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর মন ও শিক্ষা” সিরিজের “বয়ঃসন্ধি সমস্যা ” বিভাগের একটি পাঠ।
Table of Contents
বয়ঃসন্ধির সময় শিশুর যৌন বিষয়ে আগ্রহ ও কিছু তথ্য ছেলেদের বিষয়ে | বয়ঃসন্ধির সমস্যা | শিশুর মন ও শিক্ষা
১. পুরুষের বেলায় ব্যবস্থাটা— সিস্টেমটা — বেশ সহজ। সন্তান জন্মে পুরুষের অংশগ্রহণ যথেষ্ট স্বল্পকালীন এবং এককালীন, মেয়েদের মতো দীর্ঘকালীন এবং জন্মের পরেও প্রলম্বিত নয়।
২. মাসিকের জট-ঝামেলা নেই। সেই কারণে উদ্ভূত অন্যান্য সমস্যাও নেই। বেশ ঝাড়াহাতপা ! মেনোপজ বা রেত-অবসান-কাল বলে কোনো অবস্থা নেই।
৩. বয়ঃসন্ধির পর থেকে পুরুষের স্পার্ম এবং পুরুষের হরমোন— টেস্টোস্টেরন— আমৃত্যু সচল থাকে। নারীর হাজারো জৈব ঝামেলা থেকে পুরুষ মুক্ত। যদিও পুরুষের বেলায় আছে ক্লাইমেকটেরিক সিনড্রোম। এর মূলে জৈব উৎসের তুলনায় মানসিক প্রভাব প্রধান।
৪. পুরুষের যৌনেচ্ছা, জৈব-তাড়না, নানা উদ্দীপকের দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। তাৎক্ষণিক বাসনাতৃপ্তির ঝোঁকে পেয়ে বসে এবং সম্ভব হলে যৌন সম্ভোগে তৃপ্তি খুঁজে নেয়। এ ছুটি! মেয়েদের মতো সঙ্গমেচ্ছা শতসূত্রে বাঁধা নয়— ভালবাসা, গৃহমুখি মন, মা-বাবা- পরিবার, বর্তমান-ভবিষ্যৎ।
৫. প্রকৃতির দ্বিমুখী নীতির শিকার নারী, ভোক্তা পুরুষ। ‘ড স্ট্যান্ডার্ড’! সংগ্রাম চলেছে। উভয়কেই ভাবতে হবে। নারীকে হুঁশিয়ারও থাকতে হবে— ইন অ্যাডিশন! ৬. পুরুষের বেলায় অণ্ডকোষ। দুটি কাজ করে— প্রজননে স্পার্মের যোগান দেয়,
এনডোক্রিন ক্ষরণে সাহায্য করে (টেস্টোস্টেরন ক্ষরণে)। এই দ্বিতীয় কাজটি অনেক আগে থেকেই শুরু করে। ভাই-বোন আলাদা করে দেয়— পুরুষ ও নারী।
৬. প্রথম কাজটির শুরু বয়ঃসন্ধির বিন্ধুতে। বীর্য বা রেতঃ ক্ষরণে। পুরুষের যৌনাঙ্গটি (জননেন্দ্রিয়, লিঙ্গ, পুরুষাঙ্গ, শিশ্ন, উপস্থ) একটি অত্যন্ত জটিল স্তরবিন্যস্ত অংশ।
৭. বহুবিচিত্র অবস্থার চাপে ও তাপে— রক্ত ও পেশীর চাপে এবং যৌনবাসনার তাপে— শক্ত, সোজা ও ডাঁট হয়ে উত্তেজিত-উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। সুষুন্মাকাণ্ড ও মস্তিষ্কের হিপোথ্যালামাস অংশের যৌথ ক্রিয়াকাণ্ডে এটা ঘটে। সঙ্গে অবশ্যই মানসিক প্রেরণা থাকা চাই।
৮. এই পুরুষাঙ্গটি স্ত্রীঅঙ্গ (যোনি বা ভগদ্বার)-মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে যথাসময়ে বীর্যপতন বা রেতঃপাত ঘটায়। সেই বীর্যমধ্যস্থ (৩ থেকে চার সি. সি. মতো, ৪০০-৫০০ মিলিয়ন স্পার্ম নিসৃত হয় এককালে। জৈব অভিব্যক্তি ও উদ্বর্তনের নানান কারণে এই লক্ষ লক্ষ স্পার্মের মূলে একটি সন্তান সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়। একটিই লাগে। জটিল প্রক্রিয়ায় বাকিদের মৃত্যু ঘটে।) একটি X বা Y ক্রোমোসোম প্রাণের যাত্রা শুরু করায়। ওভাম X X- এর একটিকে বিদ্ধ করে যৌথ জীবন একত্বের জীবন পায়।
সন্তান ছেলে হবে কি মেয়ে হবে তা সুতরাং পুরুষের ক্রোমোসোম স্থির করে দেয়। নারীর কিছুই করার নেই কারণ সে দুটি X X যোগান দেয়। Y থেকে ছেলে হয়। পুরুষের প্রদেয় সেটি, নারীর নৈব নৈব চ।
যৌন রোগ বিষয়ে কিছু তথ্য :
১. সিফিলিস্
ক) সিফিলিস্: সিফিলিস্ ব্যাকটিরিয়া বাহিত রোগ। যৌনসঙ্গমে আহরিত। অনেক ক্ষেত্রে জন্মজ— মায়ের সূত্রে পাওয়া। (অনেক দেশে ভাই প্ৰাকবিবাহ মেডিক্যাল চেকআপের, অনুসন্ধানের আইন আছে। থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি রোগের বেলাতেও এমন অনুসন্ধানের কথা ভাবা হচ্ছে।)
খ) এই রোগ তিনটি পর্যায়ে বা স্তরে প্রকাশ পায়। প্রথম স্তর— যৌনাঙ্গের যে স্থানে স্পাইরোসেট ব্যাকটিরিয়া প্রবেশের পথ করে নিয়েছে ছেঁড়া-ছেঁড়া, ঘা-ঘা অবস্থা করে তুলেছে— পুরুষের প্রজনন অঙ্গে অথবা নারীর যোনিমধ্যে— সেখানে ১০-২১ দিন পর্যন্ত থাকে। যৌন সঙ্গমের পরে। এই সময়টিতে ঐ ব্যাকটিরিয়ারা বেশ স্বস্তিতে থাকে না। পেনিসিলিন চিকিৎসায় দ্রুত ফল হয়। নির্মূল হয়। দ্বিতীয় স্তরে— যদি এই স্তরে পৌঁছোতে পারে (দুর্ভোগ আর কাকে বলে!) তাহলে মাসের পর মাস বছরের পর বছর থেকে যাবে।
কোনো সিম্পটম বা চিহ্ন থাকবে না। তবে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি খিটখিটে, ঈর্ষাকাতর, লক্ষ্যহীন, ক্লান্তিবোধ করবে এবং মাথাধরায় ভুগবে। তৃতীয় স্তরে— সর্বনাশের আর তখন বাকি নেই! স্পাইরোসেটরা তখন দুই জায়গায় ঘাঁটি গেড়ে বসে গেছে— করোনারি আর্টারির দেওয়ালে (করোনারি থ্রমবসিস ঘটাবে) অথবা সুষুন্মাকাণ্ডের মধ্যে বা মস্তিষ্কের গভীরে (পেরেসিস্)— এবং সার্বিক ধ্বংস সাধনে তৎপর হয়েছে। উন্মাদ হয়ে যাবে, অথবা প্যারালিটিক। তখন আর পেনিসিলিনে কোনো কাজই হবে না।অসংবৃত্ত যৌন সঙ্গম করতে যারা লজ্জা পায় না, লজ্জা পায় আহরিত রোগের কারণে এবং তাকে প্রকাশ করতে তাদের ডাক্তাররাও বাঁচাতে পারবেন কি?
২. গনোরিয়া
গনোরিয়া। এই রোগটি সিফিলিসের মতো অতো সাংঘাতিক নয় এবং পেনিসিলিনে আরোগ্য। প্রস্রাবের নালিতে ইনফেকশন ঘটে। মাঝে মাঝে শরীরের অন্যান্য অংশেও জায়গা করে নেয়। তখন বাত-বেদনা, ম্যানেনজাইটিস্ ইত্যাদি হয়ে পড়ে। নারীর বেলায় ফেলোপিয়ান টিউব বেয়ে পুঁজ তৈরি করে। কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া পথ থাকে না। ফলে সন্তান ধারণ যোগ্যতাও বাদ হয়ে যায়।
