কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে

কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে – বিষয়টি নিয়ে আজকের আলোচনা। কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে আলোচনাটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে

 

কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মায়ের দুধ দেওয়া উচিত । অনেকে জন্মের ৩০ মিনিটের মধ্যেই শালদুধ দিতে বলেন । তবে ৪/৬ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই দিতে হবে। শিশুর শরীর জমে থাকা খাদ্যের পরিমাণ খুবই কম । তাই জন্মের ৪/৬ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ (বা অন্য কোনো দুধ) না দিলে, শর্করা বা গুকোজের অভাবে শিশুর খিঁচুনি হতে পারে । তিন মাস বয়স পর্যন্ত শিশু কাঁদলেই মায়ের দুধ দেওয়া যায়। তারপর ক্রমশ তিন, সাড়ে তিন বা চার ঘণ্টা পরপর তা দিতে হয় । 

মায়ের দুধ খাওয়াবার জন্য মাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে । ঘেমে- নেয়ে একাকার হয়ে অথবা অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করে দুধ খাওয়ালে ঐ গন্ধের কারণে শিশু স্তন নাও চুষতে পারে । স্তন্যদানের আগে ও পরে প্রথমে ভেজা কাপড় (বা তুলো) ও পরে শুকনো কাপড় দিয়ে স্তন মুছে নিতে হবে ।

আরামদায়কভাবে বসে নিশ্চিন্ত মনে ও মনোযোগসহকারে শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে, যেন সে নির্বিঘ্নে তা খেতে পারে । উভয় স্তন থেকেই দুধ দিতে হবে। শিশুকে কোলে নিয়ে মাথা উঁচু করে খাওয়াতে হবে । এমনভাবে দুধ দিতে হবে যেন শিশুর মাথা পা থেকে কমপক্ষে আধা হাত (নয় ইঞ্চি) উপরে থাকে ।

শিশুকে শোয়ানো অবস্থায় দুধ খাওয়াবেন না । কারণ, গলার সঙ্গে কানের যে যোগাযোগ, শিশু চিত হয়ে শুয়ে দুধ খেলে ঐ যোগাযোগ পথ দিয়ে দুধ কানে গিয়ে শিশুর কানপাকা রোগ হতে পারে। স্তন্যদানের সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন স্তনের নিচে নাক বন্ধ হয়ে শিশুর শ্বাসকষ্ট না হয়। চুষবার সময় স্তন এমনভাবে অন্যহাতে ধরে রাখতে হবে, যেন শিশু সহজেই চুষে দুধ পেতে পারে । স্তন্যদানকালে মা শিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন । এমনভাবে খাওয়ালে মনোযোগ অখণ্ড হবে ও স্তন্যদান ফলদায়ক হবে।

 

বোতলে দুধ খাওয়ালে এমনভাবে খাওয়াতে হবে যেন বোতলের নিপল মুখের ভেতরে থাকে এবং নিপ্‌লের মধ্যে কোনো বাতাস না থাকে । অর্থাৎ নিলটি পুরোপুরি দুধে ভরতি থাকতে হবে । বোতল মাকে ধরে রাখতে হবে । বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে ঠেস দিয়ে ফেলে রাখা ঠিক নয় । তবে বোতলে করে শিশুকে দুধ না খাওয়ানোই ভালো ।

তা সত্ত্বেও শিশু দুধ খাওয়ার সময় একটু বাতাস খায় । শ্বাস নেওয়া এবং দুধ খাওয়া— দুটো একত্রে সম্ভব নয় বলে শিশু বড়োদের তুলনায় একটু বেশি বাতাস খায় । এই বাতাসটুকু বের করে দিতে হবে। শিশুর পাকস্থলীর অর্ধেক বা তারও বেশি যদি বাতাসে ভরে যায় তাহলে শিশু আর দুধ তো খাবেই না, উপরন্তু তার পেটব্যথা হবে, পেট ফুলে যাবে এবং বমিও হতে পারে ।

বাতাস বের করার জন্য শিশুকে প্রতিবারই খাওয়ানোর পরে কাঁধের উপর তুলে নিতে হবে, যাতে শিশুর পেটে মায়ের কাঁধের চাপ পড়ে । এরপর ১০-১৫ মিনিট পায়চারি করলে এবং শিশুর পিঠে মৃদু চাপড় দিলে শব্দ করে বাতাস বেরিয়ে যাবে। তারপর শিশুকে সাবধানে কাত করে শোয়াতে হবে— যাতে হঠাৎ বমি করলেও তা শ্বাসনালিতে গিয়ে শিশুর শ্বাসকষ্ট না হয় ।

 

কখন এবং কীভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

অনেকে খাওয়ার পরে মাথা কাত করে শিশুকে উপুড় করে শোয়াতে বলেন । এতেও একইরকম কাজ হয় । খাওয়ানোর পর উপুড় করে শোয়ানোর ফলে শরীরের চাপ পেটের উপর পড়ায় পেট থেকে বাতাস সহজে বেরিয়ে যায় ।

Leave a Comment