১০-১২ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয়

১০-১২ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় – বিষটি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” সিরিজের অংশ।  প্রথম বছরের শেষ তিন মাসে শিশুর ওজন ও দৈহিক বৃদ্ধি আগের মাসগুলোর তুলনায় কমে যায় । এ সময় শিশু একটু হাঁটতে শেখে । তার ইচ্ছা, সারাক্ষণ তাকে নিয়ে কেউ হাঁটবে, খেলা করবে । তার কোনো ক্লান্তি নেই ।

১০-১২ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

১০-১২ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

সারাক্ষণ শুধু খেলা আর খেলার দিকে তার মনোযোগ । শিশুর এহেন কার্যকলাপের দিকে লক্ষ রেখে বহু জিনিস তার নাগালের বাইরে সরিয়ে ফেলতে হবে । সাধারণত যেসব জিনিস সহজেই ভেঙে যায়, নষ্ট হয়ে যায় অথবা যা শিশুর কোনো ক্ষতি করতে পারে— তা অবশ্যই দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে । তাছাড়া সরু অথবা ধারালো টেবিল-চেয়ারের কোনাগুলো সম্বন্ধেও সচেতন হতে হবে।

হামাগুড়ি দিয়ে অথবা ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে টইটই করে হেঁটে বেড়ানোর সময় ঐ ধারালো কোণের উপর শিশু পড়ে বিপদ ঘটাতে পারে। শিশুর ভালোভাবে এবং তাড়াতাড়ি হাঁটা শিখবার জন্য দুই বগলে অথবা সামনে হাত ধরে তাকে হাঁটা শিখাতে সাহায্য করতে হবে । তবে walker-এর মাধ্যমেও শিশুকে তাড়াতাড়ি হাঁটতে শেখানো যায় ।

→ শিশু যখন কোনোকিছু ধরে নিশ্চিতভাবে দাঁড়াতে পারে, তখন অন্যপাশ থেকে কোনো খেলনা বা আকর্ষণীয় কিছু দেখিয়ে তাকে হাঁটাতে সাহায্য করতে হবে ।

→ হাত ধরে খেলার ছলে তাকে বসা থেকে উঠা শেখাতে হবে । 

→ একহাত ধরে হাঁটিহাঁটি পা পা করে তাকে হাঁটাতে হবে ।

 

→ প্রত্যেক খেলার সময় তার নাম বলে অথবা তার হাত-পা ইত্যাদি দেখিয়ে নাম বলে বলে তাকে কথা বলা শেখাতে হবে । হাত, পা, চোখ, নাক, মুখ ইত্যাদি বলতে পারলে শিশুকে তার নিজের শরীরেই সেই অংশ দেখানো শেখাতে হবে ।

→ বিভিন্ন সাইজ ও আকৃতির খেলনা দিয়ে তার সামনে বার বার খেলে বড়োটার ভেতরে ছোটোটা ভরা এবং বের করা শেখাতে হবে ।

→ মুখ মোছানো, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি শেখাতে হবে ।

→কিছু কিছু কাজ, যেমন – ধরো, নাও, দাও, আনো ইত্যাদি আদেশ, অনুরোধ শিশুকে বুঝতে এবং করতে দিতে হবে। একইসাথে নিষেধ সম্বন্ধেও তাকে বোঝানো উচিত, যেমন— ধোরো না, রেখে দাও ইত্যাদি ।

→ শিশুকে ধমক দিয়ে বা কোনোকিছু করতে গেলে তাকে হঠাৎ করে ভয় পাইয়ে দেওয়া যাবে না ।

শিশুর বয়স এক বছর হয়ে গেলে তার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া শুরু করতে হয় । তবে এ যত্ন তার স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য । কারণ এ সময় থেকেই ধীরে ধীরে তার ব্যক্তিত্ব জন্ম নিতে শুরু করবে। সে বুঝতে শিখবে যে, সে-ও একটা আলাদা সত্তা । তার দুষ্টুমি ও আনন্দে উৎসাহ দিয়ে, আনন্দ দিয়ে তার সত্তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে ।

 

১০-১২ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

কিন্তু অতিমাত্রায় আদর দিয়ে আবার তাকে নষ্ট করা যাবে না । কারণ, অধিক আদরের ফলে তার মধ্যে জন্ম নিতে পারে কোনো ‘ইগো’, যা ভবিষ্যতে তার মানসিক বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে । যেসকল শিশু আয়ার কোলেপিঠে মানুষ হয়, তাদের প্রতি মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে, মা-বাবার অবর্তমানে আয়ার কোনো অত্যাচারে মানসিকভাবে শিশু পীড়িত কি না ।

Leave a Comment