শিশুর ক্রমবিকাশ – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু কিছু কাজ করতে শেখে এবং তাদের শরীরের কয়েকটি পরিবর্তনও ঘটে। এগুলোকেই বলা হয় শিশুর জীবনের ‘মাইলস্টোন’। এ কাজগুলো করতে শেখা ও শরীরের পরিবর্তন ঘটারও একটি নির্দিষ্ট বয়স আছে। এতে যে যে বয়সে সাধারণত যা যা করা উচিত তা না করলে বুঝতে হবে শিশুর ‘মাইলস্টোন’ স্বাভাবিক নয় ।
শিশুর ক্রমবিকাশ | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

এই স্বাভাবিকতার মাপকাঠি আবার জাতি থেকে জাতিতে, গোত্র থেকে গোত্রে, পরিবার থেকে পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন। তবে এক্ষেত্রে শিশুর একটা নিজস্বতা রয়েছে। এ স্বকীয়তার কারণেই যে-কোনো শিশু কোনো কোনো কাজ তার সমবয়সি অন্য কোনো শিশুর তুলনায় আগে বা পরে করতে পারে । (তাতে এ পার্থক্য যদি কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক মাসের হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত)।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখার জন্য প্রচলিত রয়েছে ‘Growth chart । একই বয়সের অনেকগুলো সুস্থ শিশুর ওজন, উচ্চতা, বাচনভঙ্গি, বিভিন্ন বয়সে কোনোকিছু করতে পারা ইত্যাদির ওপর বিবেচনা করে দেখা গেছে, সুস্থ শিশুরা একটি নির্দিষ্ট আওতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর এই সীমাবদ্ধতাকেই গ্রাফ কাগজে এঁকে তৈরি করা হয়েছে ‘Growth chart’ ।
‘Growth chart’-এর সীমাবদ্ধ অংশটিকে বলা হয় স্বাস্থ্যের রাস্তা বা ‘Road to health’ । যদি কোনো শিশুর ওজন গ্রোথ চার্টের স্বাস্থ্যের রাস্তার মধ্যে থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার (শিশু) বৃদ্দি সেই মুহূর্তে স্বাভাবিক । তবে শিশুর ক্রমবৃদ্ধি স্বাভাবিক কি না দেখার জন্য নিয়মিত শিশুর ওজন, দৈর্ঘ্য বা উচ্চতা, বাহুর পরিধি প্রভৃতি মাপতে হবে ।
শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে তাহলে পরপর দুটি নির্ধারিত সময়ে মাপা তার ওজন, উচ্চতা ইত্যাদির সংযোগ রেখাটি এই ‘Road to health’-এর উপর ও নিচের রেখার সমান্তরালভাবে চলতে থাকবে। যদি সংযোগ রেখাটি সমান্তরাল না চলে নিচের দিকে নামতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে শিশুর বৃদ্ধি আগের চেয়ে কম হয়েছে এবং শিশু অপুষ্টির দিকে যাচ্ছে ।

আর একবার নিচে, একবার উপরে এমনিভাবে চলতে থাকলে বুঝতে হবে শিশু হয়তো কোনো অসুখে ভুগছে। আর যদি প্রথম থেকেই কার্ডের অর্থাৎ ‘Road to health’-এর নিচে তার ওজন, উচ্চতা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সে অপুষ্টিতে ভুগছে— এ অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
