শালদুধ ও কোলস্ট্রাম – বিষয়টি নিয়ে আজকের আলোচনা। শালদুধ ও কোলস্ট্রাম আলোচনাটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
শালদুধ ও কোলস্ট্রাম

শালদুধ হলো বাচ্চা জন্মের পরপর মায়ের স্তন থেকে নিঃসৃত ঈষৎ হলুদাভ, আঠালো দুধ। শালদুধ পরিমাণে খুব অল্প ও ঘন হয় কিন্তু এতে পুষ্টিগুণ তুলনামূলক অনেক বেশি। এতে প্রচুর অ্যান্টিবডি থাকে যা শিশুকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। এটাকে শিশুর জীবনের প্রথম টিকা বলা হয়।
শালদুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী । এ দুধের রং হলুদ বা হলুদাভ এবং অত্যন্ত ঘন। তাই অনেকে এ দুধকে স্তনদুষ্ট দুধ বলে মনে করেন । শালদুধ পরিমাণে কম হলেও নবজাতকের জন্য তা যথেষ্ট । জন্মের পর শিশুর যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই শালদুধে আছে। এ দুধে অতিরিক্ত পরিমাণ রোগপ্রতিরোধক ইমুনোগ্লোবিউলিন থাকে। এতে স্নেহ ও শর্করার পরিমাণ কম, কিন্তু আমিষের পরিমাণ পরিপক্ক দুধের চেয়ে বেশি। এসব উপাদান শিশুকে বিভিন্ন রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করে। সুতরাং শালদুধ হচ্ছে শিশুর প্রথম টিকা । এ দুধ কিছুতেই ফেলে না দিয়ে অবশ্যই নবজাতককে খাওয়াতে হবে।
শালদুধে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ, অ্যান্টিবডি ও শ্বেত রক্ত কণিকা রয়েছে।তবে স্বাভাবিক দুধের তুলনায় শালদুধে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও পটাশিয়াম কিছুটা কম রয়েছে।এছাড়া এতে লিম্ফোসাইট ও বিভিন্ন ইমিউনোগ্লোবিউলিন যেমন IgA, ল্যাক্টোফেরিন,লাইসোজাইম, ল্যাক্টোপারক্সিডেজ, কমপ্লিমেন্ট, এবং প্রোলিন সমৃদ্ধ পলিপেপটাইড (PRP), ও অল্পকিছু সাইটোকাইনস ইন্টারলিউকিনস, টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর, কেমোকাইনস ইত্যাদি রয়েছে।
শালদুধে কিছু গ্রোথ ফ্যাক্টরও থাকে যেমন ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর-১(IGF-1), ও IGF-II, ট্রান্সফরমিং গ্রোথ ফ্যাক্টর আলফা, বিটা-১ ও বিটা-২, ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর, এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর, গ্র্যানুলোসাইট-ম্যাক্রফেজ স্টিমুলেটিং গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্লেটলেট-ডিরাইভড গ্রোথ ফ্যাক্টর , ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর, এবং কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর-১।
শালদুধে উপাদান:
শালদুধে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ, অ্যান্টিবডি ও শ্বেত রক্ত কণিকা রয়েছে।তবে স্বাভাবিক দুধের তুলনায় শালদুধে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড ও পটাশিয়াম কিছুটা কম রয়েছে।এছাড়া এতে লিম্ফোসাইট ও বিভিন্ন ইমিউনোগ্লোবিউলিন যেমন IgA, ল্যাক্টোফেরিন, লাইসোজাইম, ল্যাক্টোপারক্সিডেজ, কমপ্লিমেন্ট, এবং প্রোলিন সমৃদ্ধ পলিপেপটাইড (PRP), ও অল্পকিছু সাইটোকাইনস ইন্টারলিউকিনস, টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর, কেমোকাইনস ইত্যাদি রয়েছে। শালদুধে কিছু গ্রোথ ফ্যাক্টরও থাকে যেমন ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর-১(IGF-1), ও IGF-II, ট্রান্সফরমিং গ্রোথ ফ্যাক্টর আলফা, বিটা-১ ও বিটা-২, ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর, এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর, গ্র্যানুলোসাইট-ম্যাক্রফেজ স্টিমুলেটিং গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্লেটলেট-ডিরাইভড গ্রোথ ফ্যাক্টর, ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর, এবং কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর-১।

শালদুধের স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. শালদুধে ফ্যাট ও শর্করার চেয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া গ্লাইকোপ্রোটিন, ইমিউনোগ্লোবিউলিন, ল্যাক্টোফেরিন, ল্যাক্টো অ্যালবুমিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-কেসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক এবং সন্তান বিকাশে সহায়ক উপাদান থাকে।
২. মায়ের দুধে থাকা ল্যাক্টো অ্যালবুমিন টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া কোলোস্ট্রামে থাকা সাইটোকাইনস টিউমার গঠনে বাধা সৃষ্টি করে।
৩. শালদুধে রয়েছে প্রোটিন সাইটোকাইনস, যা শিশুর শরীরে দেহের কোষ ও বুদ্ধির বিকাশে সহায়ক।
৪. এই দুধ পানে শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধ বিভিন্ন সংক্রমণ, অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।
৫. শিশুর শরীর, ত্বক, পেশি, হাড়, কার্টিলেজ, স্নায়ু পেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই দুধ। দেহের সার্বিক গঠনেও সহায়তা করে কোলোস্ট্রাম।
আরও পড়ুন: যেসব খাবার খেলে দূর হয় অবসাদ
৬. এই দুধ শিশুকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্ট ফিডিং অ্যাকশন জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর কথা বলেছে।
৭. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে মায়ের দুধ। যেসব শিশুকে টানা ছয় মাস মায়ের দুধ পান করানো হয়, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
