প্রতিদিনের খাবার নির্বাচন : সুষম খাদ্য – নিয়ে আজকের আলোচনা। নবজাতকের প্রতিদিনের খাবার নির্বাচন : সুষম খাদ্য বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।
প্রতিদিনের খাবার নির্বাচন : সুষম খাদ্য

স্বাস্থ্য সুঠাম ও অটুট রাখতে হলে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করা খুবই প্রয়োজন । দেখা গেছে, মাছ, মাংস বা ডাল, দুধ, ভাত বা রুটি, ফল, সবজি, পানি— এই পাঁচ উপাদান প্রতিদিনের খাবারে থাকলে আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা হয় । এ খাবারগুলো প্রতিটির পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে ক্যালরি, ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি এ চারটি উপাদানেরই চাহিদা ঠিকমতো পূরণ হয় । আর এরকম খাদ্যই হচ্ছে সুষম খাদ্য।
সাধারণভাবে বলা যায়, উপরে যে ছয় ধরনের খাবারের উৎস লেখা হয়েছে, এর প্রতিটি উৎস থেকে একটি বা দুটো পছন্দসই খাবার— যা স্থানীয়ভাবে পাওয়া এবং দামেও কম, বেছে নিয়ে মিলিয়ে প্রতিদিন খেলে দেহের খাদ্যচাহিদা পূরণ হয় । প্রতিদিনই মাছ, মাংস বা ডিম জোগাড় করা না গেলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই । এগুলোর পরিবর্তে ডাল, শিমের বিচি বা ছোলা খেলেও চলবে ।
অনেক শিক্ষিত পরিবারে এরকম দেখা যায় : ছেলে পছন্দ করে তাই তাকে ভাত, চিনি ও ঘি দিয়ে খাবার দেওয়া হয়। এভাবে খেলে তার কাজ করার শক্তির চাহিদা কিছুটা মিটবে। কিন্তু এ খাবারে আমিষ লবণ-ভিটামিনের অভাবহেতু তার শরীরের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন হবে না, শরীরে রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতাও জন্মাবে না । বয়স অনুযায়ী কোন কোন খাবার কী পরিমাণে খাওয়াতে হবে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
প্রথম দিকে— নরম ভাত
ভাত চটকে জাউয়ের মতো করে/সিদ্ধ আলু চটকে বা ভাত ও ডাল দিয়ে পাতলা খিচুড়ি কিংবা একটা পাকা কলা চটকে/ ১টা ডিম নরম করে সিদ্ধ করে/ রুটি-দুধ চটকে ১ থেকে ২ চামচ প্রতিবারে এবং আস্তে আস্তে পরিমাণ বাড়াতে হবে । প্রথমে আধাশক্ত খাবার, পরে দুধ ।
দুই সপ্তাহ পর থেকে
→সুজি, সয়াবিন, চিনি সিদ্ধ করে আধাতরল পায়েস ।
→ চাল, ডাল, সয়াবিন, সবজি, ডিম বা মুরগির মাংস দিয়ে আধাতরল খিচুড়ি ।
→ ডিম, আধাসিদ্ধ/আধাতরল, প্রথম দিকে কেবল কুসুমটি, পরে সবটুকু ।

→ কলা, কমলা বা যে-কোনো মিষ্টি ফলের রস বা ফলের শাঁস চটকে ।
