শিশুকে ফল খাওয়ানো – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। যে শিশু মায়ের দুধ খায়, ছয় মাস বয়স পুরো না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফলের রস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ সময়ে মায়ের দুধে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে । যেসব কৃত্রিম দুধ খায় তাদের জন্য ফলের রস প্রয়োজন হয় ।
শিশুকে ফল খাওয়ানো | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

এ ছয় মাস বয়সেই শিশুকে ফলের রস খাওয়ানো শুরু করা যায় । এতে ছোটো শিশু প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন পায়, উপরন্তু অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তাও দূর হয়ে যায় । আমাদের দেশে ফল বলতেই অনেকে কমলা, আপেল, আঙুর, বেদানা ইত্যাদি বুঝে থাকেন। কিন্তু আসলে পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেঁপে, বেল, পাকা টমেটো, আমলকী ইত্যাদি ফল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে ।
ফল দেওয়ার জন্য প্রথমত, নিজের হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে । তারপর ফল ফুটানো পানিতে ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে এবং চামচ দিয়ে অল্প অল্প করে কুড়িয়ে নিয়ে শিশুকে তা সরাসরি খাওয়াতে হবে । ফলের রস হিসেবে দেওয়ার জন্য তা পানির সঙ্গে মেশাবার কোনো প্রয়োজন নেই । তবে কমলার রস দিতে চাইলে তা অল্প পানির সঙ্গে মেশানো যেতে পারে । গাজর, টমেটো ইত্যাদি টুকরো করে সিদ্ধ করে নিয়ে হাত দিয়ে চটকে মোলায়েম করে শিশুকে খাওয়াতে হবে।

যে-কোনো ফলই দেওয়া হোক না কেন, প্রথমত, তা খুবই অল্প পরিমাণে দিতে হবে । যেমন- কমলার রস দিলে প্রথমত, ৪-৫ ফোঁটা, অথবা অন্য ফল দিলে চা-চামচের সিকি চামচ থেকে আধা চা-চামচ এবং এটা হজম হয়ে গেলে কয়েকদিন পরপর অল্প অল্প করে অনুপাতে বাড়াতে হবে । প্রথমেই অতি উৎসাহের বশে বেশি পরিমাণে দিলে শিশুর পেট খারাপ হতে পারে ।
