শিশুর জন্মের পর প্রথম ২ বছর বয়সে – বিষটি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” সিরিজের অংশ। সিঁড়ি দিয়ে একা একা উপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে উপরে চলাচল করতে চেষ্টা করে এবং করতে পারে । কলম ধরে ছবি আঁকার চেষ্টা করে । আমি খাব, বেড়াব ইত্যাদি ছোটো ছোটো বাক্য বলতে পারে। জোরে বল লাথি মারতে পারে । নিজে নিজে জামাকাপড় পরতে চেষ্টা করে । নিজের ও অন্যের জিনিস চিনতে পারে ।
জন্মের পর প্রথম ২ বছর বয়সে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

জন্মের পর কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাস ফুসফুসে ঢোকে এবং সেখানে শরীরের রক্তে অক্সিজেন যুক্ত হয় । একইসঙ্গে রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে চলে আসে । জন্মের পরপরই কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ না করলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে । নবজাতকের গায়ের রং নীল বর্ণ ধারণ করে । তখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিশুর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে ।
নবজাতকের প্রথম ভাষা বা ধ্বনি হলো ‘কান্না’ । কান্নার মাধ্যমেই সে সকলকে জানান দেয় তার আগমনবার্তা । আর কান্নার সঙ্গে সঙ্গে তার ফুসফুসে প্রথমবারের মতো বাতাস ঢোকে এবং ফুসফুস হয় সক্রিয় । মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর ফুসফুস তৈরি হলেও তখন সেটি থাকে নিষ্ক্রিয় । কারণ মাতৃগর্ভে সন্তানের ফুসফুসে বাতাস ঢোকে না বা ঢুকতে পারে না ।

নবজাতকের শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করে, তাকে মায়ের কাছে (মায়ের প্রসব কষ্ট কাটিয়ে ওঠার পর) দেওয়া উচিত। মায়ের স্পর্শে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে, মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে মা ও শিশুর মধ্যে নিবিড়তা গড়ে ওঠে । তাই প্রত্যেক মায়ের উচিত নবজাত শিশুর পরিচর্যা নিজের হাতে করা । এতে করে মায়ের নিজের ওপর আস্থা বাড়ে এবং মা ও শিশুর সম্পর্ক প্রগাঢ় হয় । এতে পরনির্ভরতা কমে ।
