শিশুর জন্মের পর প্রথম ৯ মাস বয়সে – বিষটি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” সিরিজের অংশ। সুস্থ স্বাভাবিক নবজাতক প্রায় সারাদিনই ঘুমিয়ে থাকে । শুধু খাওয়ার সময় হয়তো একটু চোখ খুলতে পারে । অনেক সময় মায়ের দুধ চুষে খাওয়াটাই তার জন্য এত পরিশ্রমের কাজ হয়ে দাঁড়ায় যে, পুরো দুধ না খেয়েই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে । জেগে থাকা অবস্থায় সুস্থ নবজাতক হাত-পা গুটিয়ে থাকে অথবা ছোড়াছুড়ি করে । শিশু সুস্থ হলে তার কতকগুলো স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বা Reflex থাকে । সাধারণত ৩/৪ মাস বয়সের দিকে এসব অভিব্যক্তি চলে যায় ।
জন্মের পর প্রথম ৯ মাস বয়স | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর ফুসফুস তৈরি হলেও তখন সেটি থাকে নিষ্ক্রিয় । কারণ মাতৃগর্ভে সন্তানের ফুসফুসে বাতাস ঢোকে না বা ঢুকতে পারে না । জন্মের পর কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাস ফুসফুসে ঢোকে এবং সেখানে শরীরের রক্তে অক্সিজেন যুক্ত হয় । একইসঙ্গে রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে চলে আসে ।
জন্মের পরপরই কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ না করলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে । নবজাতকের গায়ের রং নীল বর্ণ ধারণ করে । তখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিশুর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে ।

শোয়া থেকে উঠে বসতে পারে এবং হামাগুড়ি দেয়, হাঁটতে চাইলে হাঁটতে চেষ্টা করে এবং বেয়ে উঠতে চায়। কারো মুখে শোনা ছন্দ ও সংকেত অনুসরণ করে। যেমন— দাদা, মামা, বাবা, কাকা ইত্যাদি বললে শিশু তা বলতে পারে । তাই তাই দিলে নিজেও তা করতে পারে । নিজের নাম বলে ডাক দিলে সে পাশ ফিরে তাকায়। কারো নাম যেমন— বাবা কোথায়, মা কোথায় ইত্যাদি বললে আশেপাশে ফিরে তাকিয়ে খুঁজে বেড়ায় ।
