শিশুর সামান্য জ্বর বা পেট খারাপ হলে ডিপিটি ও হামের নির্ধারিত ডোজ যথাসময়ে দেওয়া যাবে কি – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। ডিপিটি ও হামের ইঞ্জেকশন শিশু- সুস্থ-সবল থাকলেই দেওয়া চলে ।
শিশুর সামান্য জ্বর বা পেট খারাপ হলে ডিপিটি ও হামের নির্ধারিত ডোজ যথাসময়ে দেওয়া যাবে কী?

জন্মের পরই নবজাতকের প্রথম ভাষা বা ধ্বনি হলো ‘কান্না’ । কান্নার মাধ্যমেই সে সকলকে জানান দেয় তার আগমনবার্তা । আর কান্নার সঙ্গে সঙ্গে তার ফুসফুসে প্রথমবারের মতো বাতাস ঢোকে এবং ফুসফুস হয় সক্রিয় । মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর ফুসফুস তৈরি হলেও তখন সেটি থাকে নিষ্ক্রিয় । কারণ মাতৃগর্ভে সন্তানের ফুসফুসে বাতাস ঢোকে না বা ঢুকতে পারে না ।
জন্মের পর কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাস ফুসফুসে ঢোকে এবং সেখানে শরীরের রক্তে অক্সিজেন যুক্ত হয় । একইসঙ্গে রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে চলে আসে । জন্মের পরপরই কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ না করলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে । নবজাতকের গায়ের রং নীল বর্ণ ধারণ করে । তখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিশুর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে ।

সামান্য জ্বর বা পেট খারাপ হলে টিকার নির্ধারিত ডোজ পিছিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই । কারণ জ্বর, পেট খারাপ সাময়িক ব্যাপার, কমেই যাবে । কিন্তু, টিকা দিতে দেরি হলে শিশুর শরীরে আরও বড়ো অসুখের সূত্রপাত হতে পারে যা সাধারণ জ্বর বা পেট খারাপের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মারাত্মক । এমনকি শিশুদের কিছু কিছু চর্মরোগ হয় । সেক্ষেত্রেও প্রতিষেধক টিকা দিতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুখ হলে অবশ্যই অসুখ সারিয়ে নিয়ে টিকা দেওয়া উচিত ।
