শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বুদ্ধির বিকাশ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও গবেষকদের আগ্রহ চিরন্তন। শিশুরা কীভাবে শেখে, চিন্তা করে, সমস্যার সমাধান করে—এসব জানার চেষ্টা থেকেই ‘বুদ্ধি’ পরিমাপের ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভব। তবে বুদ্ধিকে শুধু একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা হিসাবে না দেখে, তাকে একটি সামগ্রিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। এর মাধ্যমে শিশুর ভাষাজ্ঞান, চিন্তাশক্তি, অবধারণ ক্ষমতা, মানসিক দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের জটিলতা অনুধাবন করা সম্ভব হয়।
‘শিশুর মন ও শিক্ষা’ সিরিজে বুদ্ধি ও তার বহুমাত্রিক রূপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বুদ্ধি শুধু একটি ক্ষমতা নয়; বরং এটি নানাবিধ ক্ষমতা ও যোগ্যতার প্রকাশ, যা বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিমাপ করা হয়ে থাকে। এই পরিমাপ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য শুধুই প্রতিভার সনাক্তকরণ নয়, বরং মানসিক সীমাবদ্ধতা বা সমস্যা চিহ্নিত করাও।
এখানে পাঠকের অবহিতির জন্যে তাদের কয়েকটি উল্লেখ করা হলো :
Table of Contents
১. বুদ্ধি পরিমাপের ধারা
বুদ্ধি পরিমাপের জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সময় নানা পরীক্ষা ও স্কেল উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
ক. ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি
এগুলো এক একজন শিশুকে পৃথকভাবে পরীক্ষা করে তার বুদ্ধির মান পরিমাপ করে।
- বিনে-সাইমন স্কেল – ভাষানির্ভর, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম ধাপ
- স্ট্যানফোর্ড-বিনে ইনটেলিজেন্স স্কেল – আধুনিকীকৃত সংস্করণ, ভাষাজ্ঞাননির্ভর
- ওয়েশলার প্রি-স্কুল অ্যান্ড প্রাইমারি স্কেল অব ইনটেলিজেন্স (WPPSI) – ভাষা ও কর্মকুশলতা দুটোই বিবেচনায় নেয়
- ওয়েশলার ইনটেলিজেন্স স্কেল ফর চিলড্রেন (WISC) – তুলনামূলকভাবে বড় শিশুদের জন্য
- ইলিনয় টেস্ট অব সাইকোলিঙ্গুইস্টিক এবিলিটিজ (ITPA) – ভাষাগত বুদ্ধি পরিমাপে কার্যকর (৩-১০ বছর)
খ. দলকেন্দ্রিক পদ্ধতি
একসাথে অনেক শিশুকে একই পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
- ক্যালিফোর্নিয়া টেস্টস অব মেন্টাল ম্যাচুরিটি (CTMM) – শিশু ও কিশোরদের জন্য
- স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবিলিটি টেস্ট (SCAT) – ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য
- হেনমন-নেলসন টেস্টস – ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য
- কুলম্যান-অ্যান্ডারসন ইনটেলিজেন্স টেস্ট (KA) – শিশু থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য
- লোর্জ-থর্নডাইক ইনটেলিজেন্স টেস্ট (LT) – ছোট শিশু থেকে কিশোরদের জন্য
- ওটিস-লেনন মেন্টাল এবিলিটি টেস্ট – শিশু ও তরুণদের জন্য
- ডিফারেনশিয়াল অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট (DAT) – ৮-১২ বছর বয়সীদের জন্য
- আর্মি আলফা ও আর্মি বিটা টেস্ট – মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের সামরিক মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু নমুনা অনুসরণযোগ্য
২. ক্লিনিক্যাল ও প্রকৃতিবিষয়ক মূল্যায়ন পদ্ধতি
বিশেষজ্ঞরা কখনো কখনো আরও সূক্ষ্ম মানসিক বিশ্লেষণের জন্য নিচের পরীক্ষাগুলো ব্যবহার করেন:
- পিন্টবার-প্যাটারসন পারফরমেন্স স্কেল
- রোরশাক টেস্ট ও থিমেটিক অ্যাপ্রিসিয়েশন টেস্ট (TAT) – অন্তর্জাত মানসিক ভাব বোঝার জন্য
- আইসনেক প্রোজেকটিভ টেস্ট – ব্যক্তিত্বের প্রকৃতি অনুধাবনের জন্য
- সোশিও-ইকনমিক স্ট্যাটাস মেজার (SES) – শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়নে
- স্কোলাস্টিক অ্যাপটিটিউড টেস্ট (SAT) – উচ্চশিক্ষার সম্ভাব্যতা মূল্যায়নে
৩. উপ-পরীক্ষা বা সাব-টেস্টস
বুদ্ধি নিরূপণে ব্যবহৃত টেস্টগুলোতে কিছু সাধারণ উপ-পরীক্ষা থাকে, যেমন:
- ইনফরমেশন, কমপ্রিহেনশন, অ্যারিথমেটিক, সিমিলারিটিস, ভোকাবিউলারি
- ডিজিট স্প্যান, পিকচার কমপ্লিশন, পিকচার অ্যারেঞ্জমেন্ট, ব্লক ডিজাইন
- অবজেক্ট অ্যাসেম্বলি, কোডিং, মেজ টেস্টস
এসব টেস্ট থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে শিশুর কগনিটিভ দক্ষতা ও সমস্যাসমূহ বিশ্লেষণ করা যায়।
৪. সাধারণ পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
সব অভিভাবকের জন্য সব পরীক্ষা প্রাসঙ্গিক নয়। প্রতিটি শিশুর প্রেক্ষাপট ও চাহিদা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট পরীক্ষা বেছে নেওয়া উচিত। বিশেষ সমস্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়ার জন্য শিশু মনোবিজ্ঞানী বা শিক্ষা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. শব্দ-সম্পর্ক টেস্ট: উদাহরণ
আর্মি আলফা টেস্ট অনুসরণে একটি সাধারণ উদাহরণ:
প্রথম দুটি শব্দের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক থাকে। এরপর একটি তৃতীয় শব্দ দেওয়া হয় এবং তার সঙ্গে একই সম্পর্কযুক্ত শব্দ খুঁজে বের করতে বলা হয়।
যেমন:
সিংহ : বাঘ :: ঘোড়া : ?
সঠিক উত্তর: গাধা / জিরাফ / গরু – (যার সঙ্গে একই শ্রেণিভুক্ত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায়)
এই ধরণের টেস্ট বাচ্চাদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সাদৃশ্য নিরূপণের ক্ষমতা যাচাইয়ে সাহায্য করে।
আর্মি আলফা টেস্টের অনুসরণে : নিচে প্রথম দুটি শব্দ আছে; এদের একটি বিশেষ সম্পর্কও আছে। পরে একটি শব্দ দেওয়া হলো; এই শব্দটির পাশে একই রকমের সম্পর্ক আছে এমন একটি শব্দ খুঁজে নিয়ে বসাবে :


৩. দি ওয়েশলার ইনটেলিজেন্স স্কেল ফর চিলড্রেন (WISC)
ড. ওয়েশলার শিশুর বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য দুটি স্বতন্ত্র উপ-স্কেল প্রস্তাব করেন:
(ক) ভাষাগত স্কেল (Verbal Subtests):
১. General Information – পরিবেশ ও সংস্কৃতির ধারণা কী পরিমাণ রপ্ত করতে পেরেছে তা যাচাই।
২. General Comprehension – কীভাবে যুক্তিগ্রাহ্যভাবে পরিবেশ ও আচরণের অনুশীলনে সাড়া দিতে পারে।
৩. Arithmetic – মৌখিকভাবে অঙ্কের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা যাচাই (কাগজ-কলম ছাড়াই)।
৪. Similarities – সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুধাবনের দক্ষতা।
৫. Vocabulary – শব্দভাণ্ডার: বোর্ডে লেখা শব্দের অর্থ বলার সামর্থ্য।
৬. Digit Span – কিছু সংখ্যা শোনার পর তা সোজা বা উল্টো ক্রমে মনে রাখার ক্ষমতা।
(খ) কর্মভিত্তিক স্কেল (Performance Subtests):
১. Picture Completion – অসম্পূর্ণ ছবি দেখে খুঁত বের করার দক্ষতা।
২. Picture Arrangement – এলোমেলো ছবিগুলো দিয়ে সঠিক ধারাবাহিক গল্প তৈরি করা।
৩. Block Design – কাঠ বা প্লাস্টিকের ব্লক দিয়ে নির্দিষ্ট ডিজাইন পুনর্গঠন।
৪. Object Assembly – যন্ত্রাংশ/টুকরো জোড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বস্তু (যেমন জিগ-স পাজল) তৈরি করা।
৫. Coding – সাংকেতিক অক্ষর বা সংখ্যার সাহায্যে তথ্য উপস্থাপন (গোপন বার্তা লেখার ক্ষমতা)।
৬. Maze – গোলকধাঁধা সমাধান করা (খবরের কাগজে পাওয়া সাধারণ ধাঁধা থেকেও চর্চা হতে পারে)।
৪. অনুশীলনী উদাহরণ (Army Alpha টেস্ট অনুসরণে)
প্রথম দুটি শব্দের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। পরে দেওয়া একটি শব্দের সঙ্গে অনুরূপ সম্পর্কযুক্ত শব্দটি খুঁজে বের করতে হবে।
উদাহরণ:
রাত : দিন :: শীত : ?
উত্তর: গ্রীষ্ম


৫. সংখ্যাপূরণ ধাঁধা (Math Puzzle)
প্রতিটি ঘরে ১ থেকে ৯-এর মধ্যে সংখ্যা বসাও। অনুভূমিক, লম্ব ও তির্যক রূপে সংখ্যাগুলোর যোগফল নির্দিষ্ট পরিমাণে হবে।
(একাধিক সমাধান সম্ভব; এটি একটি লজিক ও মনোযোগ যাচাইয়ের অনুশীলন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।)


ক) (ii) জেনারেল কমপ্রিহেনশান : সাধারণ জ্ঞান বা ধারণার অবস্থান এবং নৈতিক মান
এই ধাপে শিশুর নৈতিক ও সাধারণ আচরণবোধ, মূল্যবোধ এবং বিচারক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় কিছু বাস্তবজীবনের সমস্যাভিত্তিক প্রশ্নের মাধ্যমে। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য বিভিন্ন বিকল্প উত্তর দেওয়া হয়, যার প্রতিটি উত্তরের মূল্যায়ন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত হয়— সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত এবং নৈতিক উত্তর ২ নম্বর, গৃহযোগ্য কিন্তু কম যুক্তিসঙ্গত উত্তর ১ নম্বর, এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বা নেতিবাচক উত্তর ০ নম্বর পায়।
উদাহরণস্বরূপ:
- ব্লেডে আঙুল কেটে গেছে। কী করবে?
- (ক) রুমাল দিয়ে চেপে ধরবো — [২ নম্বর]
- (খ) ডাক্তারখানা / হাসপাতাল যাবো — [১ নম্বর]
- (গ) চিৎকার করবো / মাকে ডাকবো / হাত লুকিয়ে ফেলবো — [০ নম্বর]
- খেলতে গিয়ে বন্ধুর বলটি হারিয়ে ফেললে (মেয়ে হলে – পুতুলটি ভেঙ্গে ফেললে)। কী করবে?
- (ক) খুঁজে বার করে দেবো (কিনে দেবো/টাকা দেবো কিনতে) — [২ নম্বর]
- (খ) পুলিশকে / বাবাকে বলবো — [১ নম্বর]
- (গ) চিৎকার / ঝগড়া করবো / খেলতে গেলে অমন হারাতেই পারে — [০ নম্বর]
- খেলতে খেলতে তোমার ভাই তোমাকে ঘুসি মেরেছে। কী করবে?
- (ক) আমি বড় তো তাই ফিরে ঘুসি দেবো না / মারবো না — [২ নম্বর]
- (খ) খেলা ছেড়ে চলে যাবো — [১ নম্বর]
- (গ) ঘুসি মেরে / ধাক্কা মেরে পালাবো — [০ নম্বর]
- হঠাৎ দেখতে পেলে রেল লাইন ভাঙ্গা, ট্রেন আসছে। কী করবে?
- (ক) ট্রেনটা থামানোর জন্য রুমাল নেড়ে সিগন্যাল দেবো — [২ নম্বর]
- (খ) দৌড়ে গিয়ে লোক ডেকে আনবো — [১ নম্বর]
- (গ) ট্রেনটাকে থামিয়ে দেবো — [০ নম্বর]
- বাড়ি বানানোর সময়ে লোকে ইটের বাড়ি বানায়। কেন?
- (ক) ইট বেশি টেকসই / ঘরকে গরম রাখে / আগুন ধরে না — [২ নম্বর]
- (খ) বাঁশ-কাঠ-মাটির ঘর সহজে নষ্ট হয়, উঁই ধরে — [১ নম্বর]
- (গ) ইটের বাড়ি দেখতে সুন্দর / লোকে বড়লোক বলে — [০ নম্বর]
- অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয়। কেন?
- (ক) না দিলে তারা অন্যদের প্রভাবিত করবে / আরও খারাপ হবে — [২ নম্বর]
- (খ) না দিলে আবার অপরাধ করবে — [১ নম্বর]
- (গ) বাবা বলেছেন / নিয়ম আছে — [০ নম্বর]
- নারীরাই শিশুদের ভালবাসে, দেখাশুনো করে। কেন?
- (ক) পুরুষরা বাইরের শক্ত কাজ করে, নারীরা নরম মনের — [২ নম্বর]
- (খ) নারীরা ঘরের কাজ করে / রান্নাবান্না করে — [১ নম্বর]
- (গ) নারীরা দুর্বল / চাকরি করে না — [০ নম্বর]
- অনেকেই ভিখারিদের দান করে। কেন?
- (ক) দরিদ্রকে দান করা উচিত — [২ নম্বর]
- (খ) সাহায্যের জন্য দেয় কিন্তু তারা অপচয় করে — [১ নম্বর]
- (গ) ভিখারিরা ধান্দাবাজ / মিথ্যাবাদী — [০ নম্বর]
- স্কুলে ভর্তির সময় পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন?
- (ক) মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করার জন্য — [২ নম্বর]
- (খ) সুশৃঙ্খল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য — [১ নম্বর]
- (গ) অপছন্দেরদের বাদ দেবার জন্য — [০ নম্বর]
- অনেকে সুতির জামা ব্যবহার করেন। কেন?
- (ক) টেকসই, আরামদায়ক ও সস্তা — [২ নম্বর]
- (খ) নরম কিন্তু ছিঁড়ে না — [১ নম্বর]
- (গ) গরিব / গ্রামের মানুষ বলে — [০ নম্বর]
- সংসদে, সমিতিতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়। কেন?
- (ক) সবাই যেতে পারে না, তাই প্রতিনিধি পাঠানো হয় — [২ নম্বর]
- (খ) একটি দল সকলের পক্ষ হয়ে কাজ করে — [১ নম্বর]
- (গ) নেতা থাকা চাই, যারা সব বোঝে — [০ নম্বর]
- প্রতিজ্ঞা করলে কথা রাখতে হয়। কেন?
- (ক) এটা নৈতিক ও সামাজিক দায় — [২ নম্বর]
- (খ) কথা না রাখলে কথার খেলাপ হয় — [১ নম্বর]
- (গ) অহংকার নষ্ট হয় / আর্থিক ক্ষতি হয় — [০ নম্বর]

ক) (iii) সাদৃশ্য–প্রতিসাদৃশ্য চিহ্নিতকরণ
সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণের সময় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রভাব থাকে। বিশেষ করে শব্দভিত্তিক পরীক্ষায় শব্দের পারিপার্শ্বিক অর্থ, বহু অর্থ, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি প্রভাব ফেলে। মা-বাবা ও অভিভাবকেরা সন্তানদের এই অনুশীলনে সহায়তা করতে পারেন। নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
(ক) ভাষার মাধ্যমে সাদৃশ্য–প্রতিসাদৃশ্য নিরূপণ (শব্দের জুটি)
- লেবু – খাদ্য : ছোড়া – চলন
- বালিকা – বালক : মানব সন্তান – লিঙ্গভেদ
- চাকু – গ্লাস : ব্যবহারের বস্তু
- খেজুর – জাম : মিষ্টি ফল
- বিড়াল – ইঁদুর : খাদক – খাদ্য
- সেতার – বাঁশি : বাদ্যযন্ত্র – তারে / রীডে বাজে
- সোনা – কয়লা : খনিজ – অলংকার / জ্বালানি
- গজ – কিলোগ্রাম : দৈর্ঘ্য – ওজন
- কলম – তরবারি : সৃষ্টি – ধ্বংস
- পর্বত – হ্রদ : কঠিন – তরল
- লবণ – জল : খাদ্য উপাদান
- স্বাধীনতা – সুবিচার : কাঙ্ক্ষিত অবস্থা
- প্রথম – শেষ : ক্রমান্বয়ের বিপরীত
- ৪৯ – ১২১ : বর্গমূলভিত্তিক সংখ্যা
(খ) (i) ছবির মাধ্যমে সাদৃশ্য চর্চা
(এ অংশে শিশুদের ছবি দেখিয়ে সাদৃশ্য চিহ্নিত করতে বলা হয় – যেমন: পাখি ও উড়ন্ত বিমানের মিল, ছাতা ও রোদচশমার পার্থক্য ইত্যাদি।)


