৪-৬ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয়

৪-৬ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় – বিষটি নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” সিরিজের অংশ। চার মাস বয়স থেকেই শিশু ধীরে ধীরে সবাইকে চিনতে শেখে । তার নিজস্ব জিনিসগুলো তাই এ সময় তার কাছে প্রিয় হয়ে দাঁড়ায় ৷ ছয় মাস বয়সে সে কথা বলতে চেষ্টা করে। এ সময় খুব মনোযোগের সাথে লক্ষ করতে হবে— শিশু কানে শোনে কি না ।

 ৪-৬ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

 ৪-৬ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

বিভিন্ন দিক থেকে শব্দ করে তার মনোযোগ আকৃষ্ট করতে হবে । যদি সে শব্দের উৎস খোঁজে, তবে সে নিশ্চয়ই কানে শুনছে। যদি সে কানে না শোনে তাহলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেসকল শিশু কানে শোনে না তারা সাধারণত কথাও বলতে শেখে না। ফলে শিশুর মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় । ঘুমের সঙ্গে শিশুর বয়সের একটা সরাসরি সম্পর্ক আছে। অধিকাংশ শিশু প্রথম কয়েক মাসে একবার খাওয়ার পর থেকে পরবর্তী খাওয়ানোর সময় পর্যন্ত ঘুমায় । অবশ্য শিশু যদি পরিমিত পরিমাণে খায় এবং হজমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে । এটা খুবই স্বাভাবিক ।

শীতের সময় সকাল ১০/১১টার দিকে তাকে ২০/২৫ মিনিট রোদে রাখা যায় । (ঘরের মধ্যে জানালা দিয়ে যে রোদ আসে সেখানে রাখলে ভালো হয় ।) তবে এ সময় শিশুর মাথা ছায়ায় রাখতে হবে । অথবা মাথায় যেন রৌদ্র না লাগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। রোদে থাকাকালীন কয়েকবার শিশুকে এপাশ-ওপাশ ও উপুড় করে দিতে হবে । তা না হলে একই স্থানে রোদ লেগে সেই জায়গাটা লাল হয়ে যেতে পারে ।

 

শিশুকে মাঝেমধ্যে কোলে নিয়ে আদর করতে হবে। তবে সারাক্ষণই তাকে কোলে রাখা ঠিক নয় । সকাল ও বিকালে শিশুকে নিয়ে খোলা বাতাসে বেড়াতে হবে। ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে তাকে পোশাক পরাতে হবে । শিশুর পোশাক ঢিলেঢালা রেখে তার স্বাভাবিক চলাফেরার নিশ্চয়তা দিতে হবে । শিশুর খেলার সাথির সহসা পরিবর্তন করা যাবে না। অর্থাৎ আজ একজন, কাল আরেকজন বা পরশু আবার অন্য কেউ— এমনি ধরনের পরিবর্তন শিশুর স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় ।

শিশুর খেলার মাঝে হঠাৎ তার মনোযোগ অন্যদিকে আকৃষ্ট করা যাবে না । অর্থাৎ তার খাবার সময় হয়ে গেছে— তাই হুট করে তাকে নিয়ে যাওয়া যাবে না । তার সাথে নম্রভাবে কাজ করতে হবে। কোনো খেলনা দেখিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে তাকে আকৃষ্ট করতে হবে। গোসলের আগে বেশ কিছুক্ষণ তাকে নিয়ে অনুশীলন করলে ভালো হয় । অনুশীলনের পর শিশু ঘেমে গেলে শরীর মুছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে এবং পরে গোসল করাতে হবে । ঘামে ভেজা শরীরে তাকে গোসল করানো যাবে না । বিভিন্ন রঙের এবং বিভিন্ন আকৃতির খেলনা শিশুকে দেওয়া ভালো ।  যেসব অনুশীলন এ বয়সি শিশুর জন্য প্রযোজ্য তা নিম্নে সংক্ষেপে দেওয়া হলো— 

→বুকের উপর শিশুকে শুইয়ে দিয়ে এমনভাবে খেলনা দেখাতে হবে, যেন তার দিকে তাকাতে গিয়ে শিশুকে অবশ্যই মাথা ঘোরাতে হয় ।

→তাকে বুকের উপর থেকে পিঠে এবং পিঠের উপর থেকে বুকে— এমনি করে গড়াতে সাহায্য করতে হবে ।

→ দুহাত ধরে আলতোভাবে টেনে বসতে সাহায্য করতে হবে। জোরে টানলে শিশু ব্যথা পাবে। পাঁচ মাস বয়স থেকে দুইধারে বালিশ দিয়ে মাঝে মাঝে বসিয়ে দিতে হবে ।

→ শিশুর পাশ থেকে এমনভাবে খেলনা দেখাতে হবে এবং তার কাছে আনতে হবে, যেন সে সহজেই ধরতে চেষ্টা করে এবং ধরতে পারে । তাছাড়া শিশুর নাম ধরে বিভিন্ন দিক থেকে ডাকতে হবে এবং তাকে আকৃষ্ট করতে হবে ।

 

 ৪-৬ মাস বয়সে বাবা-মায়ের করণীয় | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

→আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাকে প্রতিবিম্ব দেখিয়ে খেলা করানো যায়। তবে অনেক শিশু এটা পছন্দ করে না এবং ভয় পায়, সেক্ষেত্রে তা করা ঠিক হবে না ।

→শিশুর সাথে কথা বলে, জানালার বাইরে বা ঘরের বিভিন্ন জিনিস দেখিয়ে তাকেও কথা বলাতে চেষ্টা করতে হবে।

Leave a Comment