নবজাতকের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি

নবজাতকের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। সুস্থ স্বাভাবিক নবজাতক প্রায় সারাদিনই ঘুমিয়ে থাকে । শুধু খাওয়ার সময় হয়তো একটু চোখ খুলতে পারে । অনেক সময় মায়ের দুধ চুষে খাওয়াটাই তার জন্য এত পরিশ্রমের কাজ হয়ে দাঁড়ায় যে, পুরো দুধ না খেয়েই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে । জেগে থাকা অবস্থায় সুস্থ নবজাতক হাত-পা গুটিয়ে থাকে অথবা ছোড়াছুড়ি করে । শিশু সুস্থ হলে তার কতকগুলো স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বা Reflex থাকে । সাধারণত ৩/৪ মাস বয়সের দিকে এসব অভিব্যক্তি চলে যায় । এসব অভিব্যক্তি খুব মনোযোগের সঙ্গে এবং ভালোভাবে নিজের শিশুর ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। নিচে কিছু অভিব্যক্তির বর্ণনা দেওয়া হলো :

নবজাতকের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

নবজাতকের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

 

১। ঠোঁটের খুব কাছে বা ঠোঁটের উপর আলতোভাবে আঙুল রাখলে দেখতে পাবেন শিশু চোষার ভঙ্গি করে, যেন সে কিছু চুষে খাচ্ছে বা খেতে চাচ্ছে।

২। শিশুর মুখে কোনো খাবার দিলে তা সে গিলতে চেষ্টা করে ।

৩। শিশুর হাতের তালুতে আঙুলের কাছাকাছি কিছু রাখলে (যেমন— পেনসিল, কলম বা আপনার আঙুল) সে তার আঙুল দিয়ে চেপে ধরবে। ঠিক তেমনি পায়ের আঙুল দিয়েও চেপে ধরবে ।

 

৪। শিশুর সামনে হঠাৎ কোনো শব্দ করলে অথবা শরীর থেকে হঠাৎ কাপড়টা সরিয়ে নিলে, প্রথমে সেদুহাত এবং দুই পা বাইরের দিকে প্রসারিত করে পরক্ষণেই ভেতরের দিকে নিয়ে আসবে— যেন সে কাউকে জড়িয়ে ধরতে চাচ্ছে এবং পরক্ষণেই চিৎকার করে কেঁদে উঠবে ।

৫। নবজাত শিশুকে দুই বগলের নিচে ধরে তাকে দাঁড় করাতে চেষ্টা করলে প্রথমে সে দাঁড়াতে চাইবে এবং পরে এক পা বাড়িয়ে সামনে এগোতে চাইবে ।

তাছাড়া, আরও কিছু অভিব্যক্তি রয়েছে । তবে উল্লিখিত অভিব্যক্তিসমূহ কোনো নবজাতকের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে, তা অবশ্যই উদ্‌বেগের কারণ । তখন দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যেতে হবে ।

 

নবজাতকের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

 

নবজাতক সারাক্ষণই চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে। এমনকি চোখ খুললেও অনেক সময় তার চোখ ট্যারা বলে মনে হতে পারে । প্রকৃতপক্ষে তা নয় । জন্মের পরপরই নবজাতক দেখতে পায় এবং হঠাৎ চোখে আলো পড়লে চোখ কুঁচকে বন্ধ করে ফেলে অথবা কেঁদে ওঠে। তা সত্ত্বেও, কোনো বস্তুর দিকে সে তার দৃষ্টি স্থিরভাবে নিবদ্ধ করতে না-পারার জন্য অনেক সময় চোখ ট্যারা বলে মনে হয় ৷

একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, নবজাতক কাঁদলে সাধারণত চোখের পানি বের হয় না । তবে চোখ ও নাকের সংযোগকারী নালি বন্ধ থাকলে চোখে পানি জমা হতে পারে ।  জীবনের প্রথম থেকেই স্বাদ সম্বন্ধে সে ওয়াকিবহাল থাকে । ব্যথার অনুভূতি তার অত্যন্ত সংবেদনশীল । ঠান্ডা ও গরমের পার্থক্য সে সহজেই বুঝতে পারে । তাছাড়া, জন্মের পর থেকে নবজাতক শুনতেও পায় ।

Leave a Comment