শিশু যদি খেতে না চায় – এই প্রশ্নটির উত্তর নিয়ে আজকের আলোচনা। নবজাতকের না খেতে চাইলে করনীয় বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।
শিশু যদি খেতে না চায়

অনেক মাই অভিযোগ করেন তার শিশু খেতে চায় না। খাওয়ানোর ব্যাপারে অনিয়মই হচ্ছে শিশুর খেতে না চাওয়ার প্রধান কারণ । মা যদি খাওয়াবার ব্যাপারে যথাযথ নিয়মকানুন মেনে না চলেন, তবে শিশুর খেতে না চাওয়াই স্বাভাবিক ।
অনেক মা শিশুর খাবারের মাঝখানে তাকে অনিয়মিতভাবে বিস্কুট, ফলমূল, লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খেতে দেন । কেউ কেউ নিয়ম করে ছ- টায় দুধ, আটটায় ডিম, দশটায় দুধ, বারোটায় সুপ, এরকম ইচ্ছামতো চার্ট বানিয়ে খাওয়ান ।
অনেকে আবার শিশুকে নিয়মমাফিক খাওয়ানোর মাঝে কান্নামাত্রই মায়ের দুধ খাওয়ান । কোনো কোনো বাড়িতে শিশু নিজের খাবার সময় ছাড়া অন্য সময়ও আত্মীয়-পরিজন সবার সঙ্গে খায় । আবার অনেক মা তার শিশু সাতটার সময় পেট ভরে খায়নি বলে আটটার সময় তাকে আরেকবার খাবার দেন, ন-টার সময় আবার চেষ্টা করেন এবং এমনিভাবে সারাদিন ধরেই প্রচেষ্টা চলতে থাকে। এসব অভ্যাসই শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
প্রসঙ্গত, একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, শিশুর খাবার হজম হলেই তার খিদে লাগবে । আপনি যদি খাওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় ছাড়া অন্য সময়ে শিশুকে কিছু খাওয়ান, তবে ক্ষতি হবে তিনটি— প্রথমত, যে খাবার পেটে আছে, তা ঠিকমতো হজম হবে না । দ্বিতীয়ত, আপনার দেওয়া খাবার সে পুরোপুরি খাবে না । কারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার খিদে লাগেনি ।
তৃতীয়ত, এ খাবার দেওয়ার ফলে তার যখন খিদে লাগার কথা ছিল, সেই খিদেটা তখন লাগবে না। ফলে সে পরিমাণে আরও কম খাবে। জোর করলেও কোনো লাভ হবে না । বরং বমি ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে । এক্ষেত্রে তার খিদে ও খাবার রুচি নষ্ট করার জন্য অনিয়মিত খাওয়ানোর পদ্ধতিই দায়ী ।
অনেক শিশু স্কুল থেকে ফিরেই বিস্কুট, ফল বা ফলের রস ইত্যাদি খায় । তার একঘণ্টা পরেই হয়তো তার দুপুরের খাবার সময় তখন শিশু আর ঠিকমতো সে খাবারটা খেতে চাইবে না । কারণ, ইতোমধ্যেই তার খিদে নষ্ট হয়ে গেছে । অনেক শিশু সারাদিন ইচ্ছামতো যখন-তখন বিস্কুট, লজেন্স, আইসক্রিম, ফল ইত্যাদি খেয়ে পেটভরতি করে রাখে। কিন্তু খাবার সময় কিছুই খায় না । এসব অভ্যাসও ক্ষতিকর ।

মূল কথা হলো— শিশুকে সব সময় নিয়ম বা সময়সূচি অনুযায়ী খেতে অভ্যস্ত করে তুলুন। কী খাওয়াচ্ছেন তার চেয়ে বড়ো কথা হলো কখন খাওয়াচ্ছেন । শিশু খেতে চাইছে না বা খাচ্ছে না— এ অজুহাতে তাকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় খাবার দেবেন না। শিশু খেতে না চাইলে প্রয়োজনবোধে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন । তবু যখন-তখন খাবার দিয়ে তার খিদে নষ্ট করবেন না ।
