শিশু কোলে ওঠার জন্য কাঁদছে— বেশি কোলে নিলে স্বভাব – নিয়ে আজকের আলোচনা। শিশু কোলে ওঠার জন্য কাঁদছে— বেশি কোলে নিলে স্বভাব বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।
শিশু কোলে ওঠার জন্য কাঁদছে— বেশি কোলে নিলে স্বভাব

আদরে বাঁদর হয়’– এ ধারণাটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যাবে না। ‘বেশি আদর’ বলে কোনো কথাই বোধ হয় না । কাজেই বেশি কোলে নিলে শিশুর স্বভাব খারাপ হয়ে যাবে, একথার কোনো মানেই হয় না ।
জন্মের পরই নবজাতকের প্রথম ভাষা বা ধ্বনি হলো ‘কান্না’ । কান্নার মাধ্যমেই সে সকলকে জানান দেয় তার আগমনবার্তা । আর কান্নার সঙ্গে সঙ্গে তার ফুসফুসে প্রথমবারের মতো বাতাস ঢোকে এবং ফুসফুস হয় সক্রিয় । মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর ফুসফুস তৈরি হলেও তখন সেটি থাকে নিষ্ক্রিয় । কারণ মাতৃগর্ভে সন্তানের ফুসফুসে বাতাস ঢোকে না বা ঢুকতে পারে না ।
জন্মের পর কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই বাতাস ফুসফুসে ঢোকে এবং সেখানে শরীরের রক্তে অক্সিজেন যুক্ত হয় । একইসঙ্গে রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে চলে আসে । জন্মের পরপরই কান্নার মাধ্যমে ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ না করলে শিশুর শরীরে ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় এবং রক্তে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে । নবজাতকের গায়ের রং নীল বর্ণ ধারণ করে । তখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিশুর মারাত্মক পরিণতি হতে পারে ।
বরং তার কান্নার নিশ্চয়ই যখন কোনো কারণ আছে এবং কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই যখন শিশু আপনাকে কাছে পেয়ে যাচ্ছে, তখন তার মনে স্বাভাবিক ভালোবাসা ও যত্ন সম্বন্ধে সঠিক ধারণা গড়ে উঠবে এবং পরবর্তী বয়সে শিশু নিজেও একজন স্বাভাবিক মনোবৃত্তিসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠবে ।

যখনই শিশু কেঁদে ওঠে, আপনার মায়ের মন ছুটে যেতে চায় তাকে কোলে তুলে নিতে । কিন্তু আর পাঁচজনার কথায় শিশুর ভবিষ্যৎ ভালো করতে তার কান্নায় কান না দিয়ে জোর করে নিজেকে দমিয়ে রেখে লাভ কি! নবজাতকও আপনার সান্নিধ্য, শরীরের ঘ্রাণ এবং আদর সব সময় চায় । আদর করলে তার মানসিক গঠন কখনোই খারাপ হয় না ।
