শিশু কাঁদলে মায়ের করণীয় – নিয়ে আজকের আলোচনা। শিশু কাঁদলে মায়ের করণীয় বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।
শিশু কাঁদলে মায়ের করণীয়

শিশু ভূমিষ্ঠকালীন ব্যক্তির প্রাথমিক রূপ। যে এখনও যৌবনপ্রাপ্ত হয় নাই কিংবা বয়ঃসন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেনি সে শিশু হিসেবে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে চিহ্নিত হয়ে আছে। সচরাচর যে ছেলে বা মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে অবস্থান করছে সে শিশু হিসেবে চিহ্নিত। কখনো কখনো অনাগত সন্তান অর্থাৎ যে সন্তান এখনো ভূমিষ্ঠ হয় নাই বা মায়ের গর্ভে অবস্থান করছে সেও শিশুরূপে পরিগণিত হয়ে থাকে।
একজন ব্যক্তি তার পিতা-মাতার কাছে সবসময়ই সন্তান বা শিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকেন। তবে, নির্দিষ্ট সময়, স্থান অথবা ঘটনার প্রেক্ষিতে শিশুসুলভ আচরণ বা ষাট বছরের শিশু শব্দগুচ্ছেরও প্রয়োগ হয়ে থাকে। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনার শিশুকে কখনোই বেশি সময় ধরে কাঁদাবেন না ।
আপনার কোনো হিতৈষী হয়তো আপনাকে উপদেশ দেবে, “যদি শিশুর পেট ভরে থাকে, পেটের হাওয়া ঠিকমতো বের করে দেওয়া থাকে, তবে সে কাঁদলে কিছু যায় আসে না’ অথবা ‘একটু বেশি কাঁদলে তার বুকের জোর বাড়বে ।’ কিন্তু এ উপদেশে আপনার কান না দেওয়াই ভালো । কোনো শিশুকে বেশি কাঁদানো খুব খারাপ । কেননা, এতে কান্নার সময় হাওয়া গিলে আরও কষ্ট পাবে । বেশি কান্নার ফলে সে ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং আরও ঘ্যানঘ্যান করবে । তাকে খাওয়াতে অসুবিধা হবে এবং সবচেয়ে বড়ো কথা আপনার শিশু (এ বয়সেই) ভাবতে শুরু করবে তার কেউ নেই, সে একা ।

প্রথম বয়সে কান্নাই তার একমাত্র ভাষা বা কান্নার মাধ্যমে সে প্রথমে আপনার (মায়ের) সঙ্গে, পরে তার বাবার সঙ্গে এবং ক্রমশ অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে নেবে । তাই এ সময়ে তার কান্না যদি আপনাকে আকৃষ্ট না করতে পারে, পরবর্তী বয়সে সে হয়তো আপনার বন্ধুত্বকেও অস্বীকার করতে পারে । সুতরাং এখন থেকে তাকে কেঁদে কেঁদে দিন কাটাতে দেবেন না ।
