শিশুর পরিবেশ – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। শিশুকে যে ঘরে রাখা হবে সে ঘরে দিনের বেলায় যতটা দরজা-জানালা খোলা থাকবে, রাতেও ঠিক ততটাই খোলা রাখতে চেষ্টা করুন । ঘরের দুপাশে কমপক্ষে দুটি জানালা খোলা রাখুন যেন মুক্ত বাতাস চলাচল করতে পারে ।
শিশুর পরিবেশ | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

১। জানালা যদি কোনো কারণে রাতের বেলায় খোলা রাখা সম্ভব না হয় তাহলে ঘরের দুপাশে ভেন্টিলেটার বা অ্যাডজাস্ট ফ্যান লাগিয়ে নেন ।
২। শিশুকে সরাসরি ফ্যানের বাতাসে রাখবেন না। মশারি টানিয়ে মশারির উপর চাদর বা সুতির কাপড় বিছিয়ে দেন যাতে ফ্যানের বাতাস সরাসরি শিশুর শরীরে না লাগে। মশারি টানাতে না চাইলে শিশুকে ফ্যানের বাতাস থেকে একটু দূরে রাখুন ।
৩। শিশুর ঘর যদি এমন জায়গায় হয় যেখানে জানালা বা দরজা খুললেই বাইরের বাতাস বেশ বেগে ঘরে ঢোকে সেক্ষেত্রে শিশুকে জানালা বা দরজা থেকে দূরে রাখুন । শিশুকে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসে খোলামেলা পরিবেশে বড়ো হতে দেন । স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে শিশুকে রাখবেন না ।
৪। শিশুর বিছানার চারপাশে ভেজা কাঁথা, চাদর ইত্যাদি শুকাতে দেওয়া ঠিক নয় । বিছানার চারপাশে যথাসম্ভব পরিষ্কার এবং গোছালো রাখতে হবে । অন্যথায় সর্দিকাশি হতে পারে ।
৫। শীতের সময় সব জানালা বন্ধ করে দিয়ে দুপাশে দুটো জানালার অল্প কিছু অংশ খুলে রেখে পর্দা দিয়ে দিতে হবে যাতে ঘরে বাতাস ঠিকমতো ঢুকতে পারে । তবে কুয়াশা যেন ঘরে না ঢোকে ।
৬। বেশি শীত পড়লে ঘরে হিটিঙের ব্যবস্থা করতে পারলে খুবই ভালো হয় । তবে সেক্ষেত্রে একটা ভেজা তোয়ালে হিটারের পাশে কোনোকিছুতে মেলে রাখতে হবে যাতে ঘরে বাতাসের আর্দ্রতা ঠিক থাকে ।

৭। শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে একথা চিন্তা করে প্রায় সময়ই শিশুকে অনেক বেশি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়। ফলে শিশুর শরীর প্রায়ই গরম থাকে । তাছাড়া শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিপাক ক্রিয়া (মেটাবলিজম) বড়োদের চেয়ে অনেক বেশি । ফলে তার শরীরের তুলনায় অধিক হারে তাপ উৎপন্ন হয় । তাই শিশুর শরীর বড়োদের চেয়ে বেশি গরম থাকে ।
