শিশুর ন্যাপি নিয়ে আজকের আলোচনা। শিশুর প্রয়োজনে ডিসপোসেবল (অর্থাৎ একবারে ব্যবহারের উপযোগী) বা কাপড়ের তৈরি যে-কোনো ন্যাপিই আপনি ব্যবহার করতে পারেন ।
Table of Contents
শিশুর ন্যাপি | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

ন্যাপি কতবার পালটাবেন :
যতবার শিশু ন্যাপি ভিজিয়ে ফেলবে, ততবারই আপনাকে ন্যাপি পালটাতে হবে। তাছাড়াও প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং গোসলের পর ন্যাপি -পালটানো যায়। খাওয়ার পরে অনেক শিশু -মলত্যাগ করে, সেক্ষেত্রে প্রতিবারই ন্যাপি -পালটানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কোথায় ন্যাপি পালটাবেন :
সব সময় একটা নরম, গরম এবং পানিনিরোধক জিনিসের উপর শিশুকে শুইয়ে ন্যাপি পালটালে ভালো হয়। আলাদা করে এজন্য ফোম দিয়ে তৈরি জিনিস পাওয়া যায়। অবশ্য আপনি কাঠের টেবিলে বা মেঝেতে শুইয়েও এ কাজটা করতে পারেন। শিশু একটু বড়ো হলে গড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মেঝেতে রেখেই ন্যাপি -পালটানো ভালো ।

শিশুর ন্যাপি কীভাবে পরাবেন:
বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। যদি আপনি আগে থেকে তৈরি থাকেন তাহলে প্রথমবার ন্যাপি পরাতে আপনার অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

ন্যাপি পালটাতে যদি দেখেন বেবি লোশনটা বাথরুমে আর নতুন করে যে ন্যাপিটা পরাবেন সেটা অন্য ঘরে রয়ে গেছে, তখন তো ন্যাপি পালটাতে ঝামেলা হবেই । প্রতিবার ন্যাপি পালটানের সময় শিশুর মলদ্বারের আশপাশ সাবান-পানি দিয়ে ধুতেই হবে, এর কোনো মানে নেই ।
যে ন্যাপিটা পরা ছিল সেটার এক কোনা দিয়ে মল ইত্যাদি পরিষ্কার করে নিয়ে একটু বেবি লোশন বা নারকেল তেল লাগিয়ে দিয়ে নতুন ন্যাপি পরাবেন। যদি কেবল প্রস্রাব করে ন্যাপি ভিজিয়ে ফেলে একটু ভিজে তুলা দিয়ে শিশুর ত্বকটা মুছে নিলেই চলে।

পাউডার না লাগানোই ভালো। ন্যাপি পালটানোর সময় প্রতিবার অবশ্যই খেয়াল করবেন ওখানকার ত্বক বা চামড়াটা লালচে হয়েছে কি না বা কোনো ফুসকুড়ি ইত্যাদি বেরিয়েছে কি না। এগুলো ন্যাপকিন -র্যাশ হতে পারে।
শিশুর ন্যাপি পালটানোর জন্য যা যা করবেন
ন্যাপি পালটানোর জন্য যা যা করবেন – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। শিশু সংক্রান্ত যেসব ব্যাপার বাবা-মায়েদের উদ্বিগ্ন করে তার মধ্যে সবার ওপরে আছে শিশুর ডায়াপার পাল্টানো। বাচ্চাদের ন্যাপি পাল্টানো এত দুরূহ কারণ বেশিরভাগ শিশুই কখনো স্থির বা শান্ত হয়ে থাকে না। এ ছাড়া, শিশুর খাবার ও পুষ্টির ধরন বোঝার জন্য নতুন বাবা-মায়েদের কিছু সময় দরকার।

যে কোনও শিশুর ডায়াপার পাল্টানোর গল্প আরেকটি শিশুর থেকে স্বতন্ত্র। সাধারণত, কোনও নবজাত শিশুর প্রতি ঘন্টায় ২-৩ বার ডায়াপার পাল্টানো প্রয়োজন। বাবা-মায়েরা তাদের জন্য কাপড়ের ন্যাপি ব্যবহার করলে, প্রতি ৯০ মিনিট অন্তর পাল্টাতে হবে। নবজাত শিশুর ছোট পেট এবং বাড়ন্ত স্বভাবের কারণে তাদের প্রতি ২-৩ ঘন্টা অন্তর খাওয়াতে হয়। বড় হয়ে শক্ত খাবার খেতে শুরু করলে, এত ঘন ঘন বাচ্চার ডায়াপার পাল্টানোর প্রয়োজন কমে যায়।
বাচ্চাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল। ন্যাপি ভিজে যাওয়ার সাথে সাথেই পাল্টানো দরকার। ভেজা ডায়াপারের কারণে ফুসকুড়ি ও চুলকানি হয়। উরুতে, যৌনাঙ্গের কাছে, বা নিতম্বের ওপরে ত্বক লাল এবং খসখসে হয়ে যায়। এর ফলে শিশু অস্বস্তি বোধ করায় ডায়াপার পাল্টানোর সময় উত্তেজিত থাকবে বা খিটখিটে আচরণ করবে। ডায়াপার তরল শুষে নেয় তাই শিশু হিসি করলে বাবা-মা ডায়াপার পাল্টানোয় কিছুটা দেরি করতে পারেন। কিন্তু, পটি করলে, তৎক্ষণাৎ ডায়াপার পাল্টানো প্রয়োজন।
ন্যাপি পালটানোর জন্য যা যা করবেন টা নিতে আলোচনা করা হলোঃ
১। প্রথমে ব্যবহৃত ন্যাপিটা খুলে ফেলুন ।
২। ব্যবহৃত ন্যাপি দিয়ে বা ভিজে তুলা দিয়ে শিশুর ত্বকটা পরিষ্কার করুন।
৩। নতুন -ন্যাপি পরান ।
৪। পোশাক পরান ।
৫। শিশুকে এক জায়গায় (যাতে পড়ে না যায় এবং পরিচ্ছন্ন হয়) রেখে, ব্যবহৃত ন্যাপি পরিষ্কার করুন বা সরিয়ে রাখুন।
৬। সাবান দিয়ে নিজের হাত ধুয়ে ফেলুন ।
ন্যাপি পালটানোর সময় যা জোগাড় রাখবেন:
১। শোয়ানোর জায়গা (প্লাস্টিক সিট বা মাদুর)
২। সুতির -ন্যাপি, সেফটিপিন, প্লাস্টিক প্যান্ট অথবা ডিসপোসেবল ন্যাপি
৩। তুলা
৪। বেবি লোশন বা তেল
৫। পানির গামলা
৬। ন্যাপি র্যাশ ক্রিম (যদি প্রয়োজন হয়)
৭। শুকনো পরিষ্কার কাপড়
৮। খেলনা (শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য)

বাবা-মায়েরা কাপড়ের ডায়াপার কখন পাল্টাবেন?
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে যে কোনও ডায়াপারই প্রতি 2 ঘন্টা অন্তর (দিনে 10-12 বার) পাল্টানো উচিত। একটু বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, প্রতি 3-4 ঘন্টা (দিনে 6-8 বার) ডায়াপার পাল্টানো প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ন্যাপি দুর্দান্ত হলেও, ব্যবহারের আগে সেগুলি নিশ্চিতভাবে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত কিনা তা দেখা প্রয়োজন। এগুলো 60 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মেশিনে ধোয়া উচিত। পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের ন্যাপির নিচে ডায়াপার লাইনার ব্যবহার করুন যাতে শিশুর শরীরে কোনও ফুসকুড়ি দেখা না দেয়।
ডায়াপার কখন পাল্টাবেন? সেটা খাওয়ার আগে না পরে?
খাওয়ানোর পরে ন্যাপি পাল্টানো সবথেকে ভাল। খিদে পেলে শিশুরা প্রায়শই খিটখিটে আচরণ করে, এরকম খিটখিটে শিশু ডায়াপার পাল্টানোর সময় নতুন বাবা-মায়ের পক্ষে সমস্যা সৃষ্টি করবে। খাওয়ানোর পর, শিশু শান্ত হয়ে যায়, ফলে বাবা-মা সহজে এবং দ্রুত ন্যাপি পাল্টানোর কাজ শেষ করতে পারে।
রাতে কতবার শিশুর ডায়াপার পাল্টানো উচিত?
শিশুর ডায়াপার ময়লা না হলে রাতে পাল্টানোর প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ডায়াপারই লিক না হয়ে 12 ঘন্টা ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই অধিকাংশ বাবা-মায়েরই রাতের বেলা ডায়াপার পাল্টানোর প্রয়োজন নেই। শিশু খাওয়ার জন্য জেগে উঠলে ডায়াপার পাল্টানো যেতে পারে। তবে, শিশুর কোনও হজমজনিত সমস্যা থাকলে বা বেশি বার হিসি বা পটি করলে, খানিকক্ষণ বাদে বাদেই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু কতক্ষণ ভেজা ডায়াপারে থাকতে পারে?
স্বল্প সময় ভিজে থাকা কখনোই জরুরী অবস্থার মধ্যে পড়ে না, কারণ ডায়াপারের শোষণক্ষমতা খুবই ভালো। শিশু 2-3 বার হিসি করলেই ডায়াপার পাল্টান। দীর্ঘ সময় ধরে শিশু ভেজা ডায়াপারে থাকলে ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
শিশু পটি করলে, অবিলম্বে ডায়াপার পাল্টানো ভালো। দুই পায়ের মাঝে ভিজে ঝুলন্ত ডায়াপার দেখলেই বুঝবেন ডায়াপার পাল্টানোর সময় হয়েছে।
প্রতিবার ডায়াপার পাল্টানোর পরে কি শিশুকে মুছে দিতে হবে?
হ্যাঁ, শিশুকে মোছার জন্য বেবি ওয়াইপ বা নরম মসলিন কাপড় ব্যবহার করুন। মোছা না হলে, ফুসকুড়ি এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। বাবা-মায়ের সাহায্যের জন্য কিছু টিপস:
- শিশুর ডায়াপার পাল্টানোর আগে বাবা-মায়ের হাত ধোয়া উচিত।
- হিসি বা পটি যাই করুক, শিশুকে গরম জল, কটন উল, বা বেবি ওয়াইপ দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- ত্বকের ভাঁজে আলতোভাবে কিন্তু পুরোপুরি পরিষ্কার করা উচিত, বিশেষত যৌনাঙ্গের আশেপাশে।
- শিশু স্নানের পরেও ভিজে থাকলে, তাকে ন্যাপি বদলের মাদুরে শুয়ে রাখুন এবং শুকোতে সময় দিন। ন্যাপি পরলে শিশুদের সবসময়ই ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- সঠিক মাপের ন্যাপি বেছে নিন যাতে খুব আলগা বা খুব টাইট না হয়।
কত ঘন ঘন আপনার শিশুর ডায়াপার পাল্টানো উচিত?
নতুন বাবা-মা হিসাবে, ডায়াপার পাল্টানোর কাজটা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, কোন বাঁধাধরা চটজলদি নিয়ম না থাকায়; এই দক্ষতা সময়ের সাথে উন্নত হয়। প্রতিটি বাচ্চা আর তার স্বভাব স্বতন্ত্র, তাই বাবা-মাকে শিশুর রুটিন এবং কত ঘন ঘন ডায়াপার পাল্টাতে হবে তা অবশ্যই জানতে হবে। ডায়াপার পাল্টানোর ফ্রিকোয়েন্সি চার্ট বানিয়ে অনুসরণ করলে কাজটা সহজ হবে।
শিশুর ন্যাপি রেশ হলে কী করবেন?
সব ধরনের সাবধানতা সত্ত্বেও আপনার শিশুর ন্যাপি র্যাশ হতে পারে । যদি ন্যাপি র্যাশ হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াও যা যা আপনি করতে পারেন তা হলো :

১। ন্যাপি ঘনঘন পালটাবেন ।
২। রাতে সাধারণত ন্যাপির ভেতরে একটা ডিসপোসেবল ন্যাপি লাগিয়ে শোয়াতে পারেন ।
৩। র্যাশ বিভিন্ন রকমের হয়। কারণও ভিন্ন ভিন্ন। তবে যে কারণেই হোক না কেন ত্বকে র্যাশ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে ।
ডিসপোসেবল- ন্যাপি
যদি আপনার ক্রয়ক্ষমতা থাকে তবে ডিসপোসেবল -ন্যাপি কিনলেই ভালো হয় । এতে আপনার কাচা, ধোয়া, শুকানোর কোনো ঝামেলা করতে হয় না, কেবল পরালেন আর খুলে ফেলবেন। সাধারণভাবে ডিসপোসেবল- ন্যাপি পরানোর জন্য সেফটিপিন ইত্যাদির ঝামেলা না-থাকায় পরাতে এবং খোলাতেও সুবিধা । পিনের খোঁচা লাগবার ভয়ও থাকে না ।

যদি কাপড়ের ন্যাপিই আপনার পছন্দ তবুও দুই একটা ডিসপোসেবল -ন্যাপি হাতের কাছে রাখা ভালো, প্রয়োজনে চট করে ব্যবহার করা যায় । কিন্তু মনে রাখবেন, ডিসপোসেবল -ন্যাপি সব সময় বেশি করে ঘরে রাখতে হয় ।
ন্যাপি রেশ যাতে না হয় তার জন্য আপনার করুণীয়:
আপনার শিশু যাতে অনেক সময় ধরে ভিজে না থাকে, সেজন্য ঘনঘন ন্যাপি পালটাবেন ।
১। ওআন্-ওয়ে ডিসপোসেবল লাইনার ব্যবহার করলে চামড়া শুকনো থাকবে ।
২। যে-কোনো সাধারণ জিঙ্ক অক্সাইড ক্রিম মোটা করে লাগালে প্রস্রাব ত্বকে বেশি লাগবে না ।
৩। যতটা সম্ভব ন্যাপি না পরিয়ে খোলা রাখবেন ।
৪। ন্যাপি যখনই ধোবেন বেশি করে পানিতে ডুবিয়ে ধোবেন, যাতে কোনো সাবানের গুঁড়ো বা প্রস্রাব ইত্যাদি ন্যাপিতে না লেগে থাকে ।
৫। যখনই র্যাশ হয়েছে মনে হবে, প্লাস্টিকের ন্যাপি পরানো বন্ধ করে দেবেন ।
৬। এ অবস্থায় সাবান না লাগানোই ভালো, সাবান দিলে ত্বক শুকনো হয়ে যায় এবং ফেটে যেতে পারে ।
