শিশুর ত্বকের পরিচর্যা

শিশুর ত্বকের পরিচর্যা – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। শিশুর সংবেদনশীল ত্বক নিয়ে ভয়ে থাকেন মায়েরা। কিসে শিশুর ভালো, কিসে মন্দ এই ভাবনায় থাকেন তাঁরা। বিশেষ করে এই সময়ে শিশুর ত্বকের শুষ্কতা নিয়ে তাঁদের মনে নানা শঙ্কা কাজ করে।

শিশুর ত্বকের পরিচর্যা  | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

শিশুর ত্বকের পরিচর্যা  | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

শিশুর ত্বকের সাধারণ পরিচর্যা:

১। জন্মের পর নবজাতকের- ত্বক সাধারণত লাল বা গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে । তবে কারো কারো ক্ষেত্রে লাল বর্ণের পরিবর্তে জায়গায় জায়গায় নীল বর্ণ দেখা যায় । এটা অনেক সময় প্রসবকালীন অবস্থা বা অন্য কোনো কারণে (যেমন— নবজাতকের গলায় যদি নাভির ২/৩টি প্যাচ থাকে) হয়ে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা মিলিয়ে যায় ।

২। অনেক সময় জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে শিশুর ত্বক, চোখ ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয় । নবজাতকের জন্ডিস বা পাণ্ডু হওয়ার জন্যই সাধারণত এটি ঘটে । এরূপ অবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

শিশুর ত্বকের পরিচর্যা  | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

৩। জন্মের কিছু সময় পর কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল বা গা মুছিয়ে দেওয়া যায় । গোসলের পর নরম তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে হালকা কাপড় পরানো ভালো । এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, নবজাতকের- ত্বক ও নাভির মাধ্যমে রোগ সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ বিষয়ে মায়ের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

 

এ রকম আরো অনেক কাজই আছে, যেগুলোর ভালো-মন্দ সম্পর্কে অভিভাবকদের অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। শিশুর ত্বকের সুরক্ষায় সতর্কতা মানতে হবে। সঠিক উপায়ও জানতে হবে।

ঘন ঘন তেল বা লোশন:

শুষ্কতা থেকে দূরে রাখতে শিশুর শরীরে লোশন বা তেল মালিশ করে দেওয়া খুবই উপকারী।

তেল ও লোশন ব্যবহারের কারণে শিশুর ত্বক আর্দ্র থাকে। শুষ্কতা থেকে সুরক্ষা পায়। কিন্তু অনেক মা-ই ঘন ঘন লোশন বা তেল মেখে দিতে থাকেন। এটা ঠিক নয়।

বারবার লোশন বা তেল ব্যবহারে শিশুর ত্বকের লোমকূপ বা ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়, ঠিকভাবে কাজ করে না। এতে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। নবজাতকের বয়স ১৫ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের তেল, লোশন, পাউডার লাগানো ঠিক নয়। এরপর শিশুর ত্বকে দিনে এক থেকে দুইবার জলপাই বা নারকেল তেল দিতে পারেন।

কোন তেল কার্যকর:

আগে শিশুর গায়ে সরিষার তেল মেখে দিতে বেশি দেখা যেত।

এখনো অনেক মা গোসলের পর শিশুদের শরীরে কোন তেল মাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। সরিষার তেলের চেয়ে শিশুদের জন্য জলপাই তেল বেশি কার্যকর। এ ছাড়া শিশুদের ত্বকের উপযোগী লোশনও ব্যবহার করা যাবে। গোসলের পর শিশুর শরীর আলতো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

 

গোসল ও সাবানে সতকর্তা:

গোসলের সময় শিশুর ত্বক পরিষ্কার করতে বড়দের সাবান ব্যবহার করা যাবে না। বড়দের সাবানে ক্ষারের মাত্রা বেশি থাকে, যা শিশুর কোমল ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। শিশুর জন্য বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বেবি সোপ পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। কোনো সাবান একবার ব্যবহারে শিশুর অ্যালার্জি দেখা দিলে ওই সাবান আর ব্যবহার করা যাবে না। গ্লিসারিনযুক্ত সাবান শিশুর গোসলের জন্য বেশ উপকারী। এখন অল্প বয়সী শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানোর দরকার নেই। এক দিন পর পর গোসল করালেই হবে। শিশুর গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। শিশুকে জন্মের তিন দিনের মধ্যে গোসল করানো ঠিক নয়।

 

আরামদায়ক পোশাক:

শিশুর পোশাক অবশ্যই নরম, মসৃণ হতে হবে। খসখসে বা বেশি পুরু নয়। শিশুর পোশাকের নকশা ও কাটছাঁটের চেয়ে আরামের দিকটাতেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় সুতি কাপড়ের পোশাক শিশুর জন্য বেশি উপযোগী। শিশুর পোশাক নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোনো পোশাকে অ্যালার্জি হলে সেই পোশাক আর পরানো যাবে না। স্কুলগামী শিশু হলে একের অধিক স্কুল ড্রেস বানাতে হবে, যাতে একটি নোংরা হলে আরেকটি পরানো যায়।

 

খাবার হোক স্বাস্থ্যকর:

শিশুর সুন্দর ত্বকের জন্য পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল, শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে দিতে হবে। মৌসুমি ফলমূল বা শাক-সবজি শিশুর ত্বকের জন্য বেশি উপকারী। পালংশাক, ফুলকপিসহ অন্য যেসব সবজি পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়ে স্যুপ বা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে ভেতর থেকে ত্বক পুষ্টি পাবে।

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:

শিশুকে ভেজা ডায়াপার পরিয়ে রাখা যাবে না। শিশু প্রস্রাব-পায়খানা করার পর যত শিগগির সম্ভব ভেজা ন্যাপকিন বদলে দিতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা ন্যাপকিন বা ডায়াপারে থাকলে র্যাশ হওয়ার শঙ্কা থাকে। ঠিকভাবে ডায়াপার ব্যবহার না করলেও র্যাশ হয়ে থাকে। স্যাঁতসেঁতে ডায়াপারের কারণে চুলকানি, লাল ছোপ ও র্যাশের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব কম ডায়াপার পরান ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডায়াপার পাল্টাতে থাকুন।

শিশুরা হাত-পা বেশি নড়াচড়া করে এবং হাত মুখে দেয়। তাই নখ কেটে ছোট রাখতে হবে, যাতে নিজের নখে নিজের ত্বকে আঘাত না পায়। শিশুকে যেন মশা বা পিঁপড়া কামড়াতে না পারে সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। বাইরে থেকে এসে সরাসরি শিশুকে কোলে নেওয়া যাবে না। আগে সাবান পানিতে হাত-মুখ ধুয়ে তারপর কোলে নিতে হবে। যারা চর্মরোগে ভুগছে, তাদের কাছ থেকে শিশুকে দূরে রাখাই ভালো।

Leave a Comment