শিশুর চোখের পরিচর্যা – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ।
শিশুর চোখের পরিচর্যা | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

১। জন্মের পর থেকেই নবজাতকের চোখ বন্ধ থাকে। জোর করলে চোখ আরও বন্ধ করে রাখে ।
২। স্বাভাবিকভাবে প্রথম দিন থেকেই নবজাত শিশু দেখতে পারে এবং অনেক সময় শিশু আলোকরশ্মির অনুসরণ করে ।
৩। জন্মের পরেই যদি শিশুর চোখ লাল হয়ে ওঠে, চোখে পিঁচুটি পড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।
৪। স্বাভাবিক অবস্থায় জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন হালকা গরম পানিতে তুলা ভিজিয়ে চোখ দুটো পরিষ্কার করে বা মুছে দিলে ভালো হয় । আর চোখ লাল হলে বা পিঁচুটি পড়লে একই তুলাতে দু-চোখ পরিষ্কার করা উচিত নয়। তাতে এক চোখ সংক্রমিত হলে অপরটির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে । আর চোখ দিয়ে অবিরত পানি পড়লে, সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৫। যদি শিশুর চোখে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ, যেমন— চোখের মণির (কর্নিয়া) উপর সাদা দাগ, চোখ অস্বাভাবিক বড়ো হওয়া, হঠাৎ ট্যারা হয়ে যাওয়া প্রভৃতি দেখা দেয় তবে এসব ক্ষেত্রে সময়মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।

৬। নবজাতকের চোখে কাজল লাগাতে অনেকেই পছন্দ করেন। কাজল লাগিয়ে চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর আগে ভেবে দেখুন, কাজল জিনিসটি কী। আসলে আগুনে কাপড় পোড়ানো কালি আর তেল মিশিয়ে হয় কাজল । চোখের জন্য এসব কোনোটাই ভালো নয় । বাড়িতে বানানো বা বাজারের কেনা কাজল কোনোটাই ব্যবহার করা ঠিক নয়। মানুষের কুনজর যাতে আপনার নবজাতকের উপরে না পড়ে সেজন্য তার শরীরের যে-কোনো জায়গায় কাজলের ফোঁটা দেন ।
৭। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারো পরামর্শে নবজাতকের চোখে ওষুধ ব্যবহার না করা ভালো।
