শিশুর গোসল – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য যা করা একান্ত প্রয়োজন, তা হলো তাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত গোসল করানো । প্রথম কয়েক মাস শিশুকে গোসল করানো নতুন মায়ের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সব সময় একটা ভয় থাকে, হয়তো ফসকে পড়ে গিয়ে শিশু আঘাত পেতে পারে কিংবা নাকে-কানে পানি ঢুকে যেতে পারে । একটু সচেতন হলেই এসব ভয় এড়িয়ে শিশুকে সুন্দরভাবে গোসল করানো যায় ।
শিশুর গোসল | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

১। প্রথমদিকে মা ইচ্ছা করলে শিশুকে তার কোলে রেখে গোসল করাতে পারেন । কোলে ওয়াটার প্রুফ জাতীয় কোনোকিছু বিছিয়ে নিয়ে তা করা যেতে পারে । অথবা কোনো বড়ো চওড়া পাত্রে তোয়ালে বিছিয়ে তাতে কুসুম গরম পানি নিয়ে গোসল করানো যায়। এ সময় গোসলের সব সরঞ্জাম হাতের কাছে সাজিয়ে রাখা উচিত ।
২। গোসল করানোর আগে পরিচর্যাকারিণীর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া এবং হাতের আংটি, চুড়ি, ঘড়ি প্রভৃতি খুলে রাখা উচিত । গোসল ঘরের ভেতরে করানোই ভালো ।
৩। গোসলের আগে নরম তোয়ালে বা রুমালের কোনা ভিজিয়ে অথবা তুলা দিয়ে শিশুর নাক ও কান পরিষ্কার করতে হবে । অতঃপর অলিভ অয়েল বা অন্য কোনো তেলে তুলা ভিজিয়ে তা দুই কানে দেওয়া যেতে পারে, যাতে কানে পানি না ঢোকে ।
৪। গোসলের শুরুতে নরম তোয়ালে বা স্পঞ্জে সাবান মেখে তা দিয়ে শিশুর সমস্ত শরীর ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে । বিশেষত যেসব জায়গায় ঘাম, ময়লা বা পাউডারজাতীয় অন্যান্য জিনিস লেগে থাকতে পারে, সেসব জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে । তারপর পানি দিয়ে সাবানের ফেনা ধুয়ে ফেলে পরিষ্কার শুকনো তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শরীরের সব পানি মুছে নিতে হবে ।
৫। সপ্তাহে একবার বা দুবার মাথায় শ্যাম্পু বা সাবান (যে-কোনো মাইল্ড সাবান অর্থাৎ কম ক্ষারযুক্ত সাবান) ব্যবহার করা যেতে পারে ।
৬। গোসলের আগে অনেকে খাঁটি সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল শিশুর শরীরে মাখিয়ে নিতে বলেন । তবে তা এমনভাবে মাখানো উচিত, যাতে করে শিশুর ঠান্ডা না লাগে। গোসলের পর ভালোভাবে তা মুছে দিতে হবে, যাতে শিশুর গায়ে তেল আর না লেগে থাকে । [* সরিষার তেলের চেয়ে বেবি অয়েল শিশুর ত্বকের জন্য ভালো ।

৭। অনেক মা গোসলের পর শিশুর গায়ে পাউডার মাখান। এক্ষেত্রে বেবি পাউডার বা যে-কোনো সাধারণ পাউডার পাফের সাহায্যে আলতোভাবে শিশুর গায়ে লাগাতে পারেন, যাতে করে কোনো আলগা পাউডার শিশুর গায়ে না লেগে থাকে ।
৮। শিশুকে প্রথম কয়েক মাসে সাধারণত সকালে গোসল করানোর রীতি প্রচলিত আছে। তবে কেউ কেউ রাতে গোসল করানোর পক্ষপাতী, এজন্য রাতে শিশু আরামে ঘুমায় । কিন্তু যখনই গোসল করানো হোক না কেন, তা যেন খাওয়ার আগে হয় এবং গোসলের পরে যাতে তাকে ভালোভাবে খাওয়ানো হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত ।
