শিশুর খাদ্যতালিকা

শিশুর খাদ্যতালিকা – নিয়ে আজকের আলোচনা। নবজাতক শিশুর খাদ্যতালিকা বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।

 

শিশুর খাদ্যতালিকা

 

শিশুর খাদ্যতালিকা | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

শিশুর খাদ্যতালিকা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

শিশু জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত খাদ্যতালিকা:

এ বয়সে ক্ষুধা লাগলে শিশু কান্না করবে। শিশু যতবার ক্ষুধায় কাঁদবে, ততবারই মায়ের দুধ খাওয়ানো যায়। মায়ের দুধ দেওয়ার আগে স্তন পরিষ্কার করে শিশুর মুখে দিতে হবে । প্রতিবার খাওয়ানোর সময় দুই স্তনই পর্যায়ক্রমে দিতে হবে ।

মায়ের দুধ চাহিদামতো না পেলে শিশু কান্না করবে । সেক্ষেত্রে মায়ের দুধ বাড়ানোর জন্য মাকে ভালো খাবার খেতে হবে। মাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে । তাতেও দুধ না বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাকে ওষুধ খাওয়ানো যায় । ৭-১০ দিন ওষুধ সেবন করলে মায়ের দুধ বাড়বে । কোনো কারণে শিশুকে মায়ের দুধ দেওয়া না গেলে কৌটার দুধ (ইনফ্যান্ট ফরমুলা) দিতে হবে । কৃত্রিম দুধ কী নিয়মে খাওয়াতে হবে, তা আগেই আলোচনা করা হয়েছে ।

 

এখানে উল্লেখ্য, এ বয়সে শিশুকে মাঝেমধ্যে বাড়তি পানি খাওয়ানোর কোনোই প্রয়োজন নেই । চিনি-তালমিছরি-মধু-গুকোজ খাওয়ানো একেবারেই অনুচিত। এতে পেটে গ্যাস হয় এবং শিশু পেটব্যথায় কান্নাকাটি করে । এ সময়ে প্রথমে ২ সপ্তাহ অন্তর অন্তর, পরে ১ মাস অন্তর অন্তর শিশুর ওজন দেখতে হবে এবং তা গ্রোথ চার্টে লিখে রাখতে হবে । যদি প্রতি মাসেই শিশুর ওজন বাড়ে, তবে তা খুবই ভালো লক্ষণ । আর যদি ওজন না বাড়ে বা কমতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।

 

শিশুর খাদ্যতালিকা | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

শিশুর ৬ মাস বয়সের পর থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত খাদ্যতালিকা:

এ বয়সে শিশুকে ৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর খাবার দিতে হয় । তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ ঘণ্টা অন্তর শিশুকে খেতে দেন । যেমন- সকাল ৬টা, সকাল ৯টা, দুপুর ১২টা, বিকাল ৩টা, সন্ধ্যা ৬টা, রাত ৯টা এবং প্রয়োজনে রাত ১২টায় । মাসদুয়েক এই সময়ানুযায়ী খাওয়ানোর পর শিশুকে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে ৪ ঘণ্টা অন্তর খেতে দেন । এভাবে শিশু খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তাকে ৪ ঘণ্টা অন্তর সিডিউলে খেতে দেন । মাঝখানে পানি ছাড়া কোনোকিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই । প্রতিবার ২০-২৫ মিনিট সময়ে যা খেতে পারে তাই দিতে হবে। জোরপূর্বক কোনো খাবার খাওয়ানো ঠিক হবে না ।

Leave a Comment