মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার দেরিতে শুরু করলে কি হয়?

মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার দেরিতে শুরু করলে, এক বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোনো মা শিশুকে মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার খেতে দেন না। এত দেরি করে শিশুকে অন্যান্য খাবার দেওয়া ঠিক নয় । এতে শিশুর পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে ।

মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার দেরিতে শুরু করলে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার দেরিতে শুরু করলে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

মায়ের দুধ  সহজলভ্য, বিশুদ্ধ ও উপাদেয় । কৌটার বা গোরুর দুধ কিনতে যে টাকা বাড়তি খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কম খরচে মাকে খাবার কিনে খাওয়ালে অনেক বেশি দুধ সহজে পাওয়া যায় । এ দুধ বানাতে হয় না, ফুটাবারও ঝামেলা নেই । তাই জ্বালানি খরচ ও সময়— দুই-ই বাঁচে ।

 

মায়ের -দুধ খেলে পেটের পীড়া, অপুষ্টি, নবজাতকের ধনুষ্টংকার, ত্বকের রোগ ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত কম হয়। কারণ, এ দুধে রয়েছ রোগপ্রতিরোধক ইমুনোগ্লোবিউলিন, জীবাণুনাশক কোষ — রোগজীবাণু ধ্বংস করে, কমপ্লিমেন্টস— যা রোগজীবাণু ধ্বংসের অন্যতম উপাদান এবং ইন্টারফেরন উৎপাদনকারী কোষ— এগুলোও রোগজীবাণু ধ্বংসে সহায়তা করে। মায়ের -দুধের মাধ্যমে হাম, মাম্পস, পলিওমাইলাইটিস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি শিশুর দেহে প্রবেশ করে । নিয়মিত মায়ের- দুধ খাওয়ালে মা ও শিশুর মাঝে ক্রমশ একটা নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

মায়ের দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার দেরিতে শুরু করলে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা 

 

ছয় মাস বয়সের পর থেকে অন্যান্য খাবার খেতে শুরু না করলে শিশু ঠিকমতো বাড়ে না । কিছু শিশু ৯-১০ মাস বয়স পর্যন্ত কেবল মায়ের -দুধ খেয়ে বেড়ে ওঠে কিন্তু বেশিরভাগ শিশুর বেলায় ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে মায়ের- দুধে আর যথেষ্ট হয় না। ছয় মাসের পর থেকে শিশুদের সহায়ক খাবার না দিলে তারা পরে আর সহজে এসব খেতে চায় না। ছয় থেকে নয় মাস বয়সে বেশিরভাগ শিশুর খুব খিদে থাকে । তখন তারা অন্য খাবার খেতে চায় ও নতুন নতুন খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ থাকে ।

Leave a Comment