শিশুর বিসিজি টিকা – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ। বিসিজি টিকা শিশু জন্মের পরপরই কিংবা জন্মের এক মাসের মধ্যে দেওয়া যায় । যদি কোনো কারণে দেওয়া না হয়ে থাকে ২ বছর বয়সের মধ্যে যে- কোনো সময়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে । ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুয়েরিন (বিসিজি) টিকা হল একটি টিকা যা প্রধানত যক্ষ্মার (টিবি) বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। যে সব দেশে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব আছে, সেখানে সুস্থ শিশুদেরকে জন্মের সময়ের যতটা সম্ভব কাছাকাছি সময়ে একটি ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।এইচআইভি/এইডস থাকা শিশুদের টিকা দেওয়া উচিত নয়।
শিশুর বিসিজি টিকা | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

যে সব অঞ্চলে যক্ষ্মা সাধারণভাবে ঘটে না, সেখানে কেবল উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদেরই সাধারণত টিকা দেওয়া হয়, এবং যক্ষ্মার সন্দেহজনক ঘটনাগুলিকে পরীক্ষা করা হয় এবং চিকিৎসা করা হয়। যেসব প্রাপ্তবয়স্কদের যক্ষ্মা নেই এবং পূর্বে টিকা দেওয়া হয়নি কিন্তু ঘন ঘন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার সংস্পর্শে আসেন, তাদেরও টিকা দেওয়া যেতে পারে। টিকা দেওয়ার ২ সপ্তাহ পরে টিকাস্থান লাল হয়ে যায় । দুই তিন সপ্তাহ পরে সামান্য ঘা হয়— যা এমনিতেই সেরে যায় । কোনো কোনো শিশুর জ্বর হতে পারে ।
বিসিজি টিকা প্রথম ১৯২১ সালে চিকিৎসামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অপরিহার্য ওষুধগুলির তালিকায় আছে, যেগুলি মৌলিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ -ওষুধ।২০১৪ সালে একটি ডোজের পাইকারী দাম হল ০.১৬ মার্কিন ডলার।

ব্যবস্থাপনা :
১। কোনো ওষুধ বা তেল ক্ষতে দেওয়া যাবে না ।
২। টিকার স্থান খোলা রাখতে হবে ।
৩। নিজ থেকেই শুকিয়ে যাবে ।
৪। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যায় ।
