বাবা-মাকে হারাবার ভয়, যেহেতু এতদিনে আপনাদের সঙ্গে ওর ভালোবাসার সম্পর্ক বেশ দৃঢ় হয়ে উঠেছে, কিছু সময় আপনাদের (বিশেষ করে আপনাকে) না দেখলেই ওর মনে ‘আমার মা হারিয়ে গেছে’ ভাবের উদয় হতে পারে এবং ও কাঁদতে পারে ।
Table of Contents
শিশুর বাবা-মাকে হারাবার ভয়:

আপনার শিশু কতটা ভয় পাবে বা একদমই পাবে কি না, তার সবটাই নির্ভর করছে কীভাবে এতদিন ও আপনার ভালোবাসা এবং সান্নিধ্য পেয়েছে তার ওপর । প্রথমবারে যদি আপনার অনুপস্থিতি ওর ভয়ের কারণ হয়ে থাকে দ্বিতীয়বারে সেটা বেড়েও যেতে পারে । কোনো শিশুই বাবা-মাকে ছেড়ে থাকতে চায় না । আপনারা যত আদর্শ পিতামাতা হবেন, তত বেশি আপনাদের না দেখলে ওর কান্না পাবে ।
এমন ভয় থাকলে আপনার করণীয়:
- আপনার শিশু ভয় পেয়ে কাঁদে বলে কোনো সময়েই বিরক্ত বোধ করবেন না । এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করবেন না ।
- ওর মনের ভাব বুঝতে চেষ্টা করবেন এবং ওকে ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করবেন ।
- মুখে যা বলবেন কাজেও তাই করবেন। যেমন— যদি বলবেন ‘রান্না চাপিয়েই আসছি’— ঠিক রান্নাঘরে হাতের কাজটা সেরেই চলে আসবেন— যতই দরকারি হোক, অন্য ঘরে যাবেন না। যদি বলেন, ‘দশ মিনিটেই’ এসে আবার তোমার সঙ্গে খেলব— তাই করবেন (যদিও সময়জ্ঞান তখন ওর হয়নি) । কোনো সময়েই মুখে একরকম বলে কাজে তার অন্যথা করবেন না। এতে এ বয়স থেকেই ওর মনে আপনার ওপরে অবিশ্বাস দেখা দেবে ।
- ধীরে ধীরে আপনার কথার ওপর ওর আস্থা আনবার চেষ্টা করবেন, ওর ভয় কেটে যাবে এবং আপনি ওকে বুঝিয়ে বলে নিজের কাজে যেতে পারবেন ।
- ও ভয় পেয়ে কাঁদে বলে, ওকে সব সময় পাহারা দেওয়াটাও কিন্তু ঠিক নয় । এতে ওর আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে অন্তরায় হবে ।
শিশুর হতাশা :
আপনার শিশুর যখন দু-বছরের মতো বয়স তখন হাত-পায়ের কাজকর্ম করবার বা এখানে-ওখানে যাওয়ার বা এটা-ওটা হাতে নেওয়ার শারীরিক ক্ষমতার চেয়ে ওর মনের গতি অনেক বেশি এগিয়ে চলে । কোনটা ওর পক্ষে সম্ভব নয় বা মারাত্মক সে বোধ ওর থাকে না । এ সময়ে আপনাকে ওকে বিপদের ঝুঁকি হতে বাঁচাতে অবশ্যই কিছু কিছু বাধা দিতে হয় । আর এতেই ওর মনে ক্রোধ আর হাতাশা দেখা দেয়, ও কাঁদে ।
শিশুর হতাশায় আপনার করণীয়:
- এ সময়ে আপনাকে যথেষ্ট ধৈর্য ধরতে হবে । ওকে ওর কাজে বাধা দিয়ে সাবধানের চেষ্টা না করে, ওকে ওর কাজে সাহায্য করুন। যেমন— রংপেনসিলের বাক্সটা খুলে ওর হাতে ধরিয়ে দেন। কাজটা ঠিকভাবে এগিয়ে দেন, কোনো খেলনার স্প্রিং চাবিটা ঘুরিয়ে দেন যাতে এটা চলে । ও যখন বন্ধ খেলনাটা নিজে চালাতে যাবে এবং পারবে না, ওর বিরক্তি আসতে পারে । ওকে সাহায্য করুন । যদি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে চায় ‘পারবে না, পড়ে যেতে পারে’ এ অবস্থায় তাকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে না গিয়ে, ওকে সিঁড়ি বাইতে সাহায্য করুন ।
- যদি কোনো কাজ কিছুতেই করতে না পেরে কাঁদে তাহলে ওর মনকে অন্য কোনো পছন্দের খেলনা ইত্যাদির দিকে ঘুরিয়ে দেন ।
- যদি ওর দিদি দাদাকে দেখে দু-বছরের শিশুও সেটা করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, তবে ওকে বলুন এসো খেলি— বলে যেটা ও পারে তাই করতে দেন । কিন্তু মনে রাখবেন ওর মানসিক বৃদ্ধির জন্য সব সময় নতুন জিনিস করাকেই উৎসাহিত করা উচিত ।
- কোনো সময়েই কোনো কাজ করাতে গিয়ে মা-শিশুতে যুদ্ধ ঘোষণা করে বসবেন না। খাওয়াই হোক বা মলমূত্র ত্যাগই হোক বা খেলাই হোক, বকুনি মারধর ইত্যাদি করে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয় । ওর নিজের স্বাধীনসত্তাকে সম্মান করা উচিত । কোনো কাজ কেন ওর করা উচিত- সেটা শেখান এবং ও করবে কি, করবে না, সেটা ওর ওপরে ছেড়ে দেন । দেখবেন ওতেই ও আপনার বাধ্য হবে, গায়ের জোরে নয় ।

