বাজের শব্দে শিশুর ভয় বা বিদ্যুৎ চমক, বেশিরভাগ শিশুই বিদ্যুৎ চমক বা বাজ পড়ার আওয়াজে ভয় পায়, কাঁদে । এই সময় কী করবেন তা নিয়ে আজকের আলোচনা।
Table of Contents
বাজের শব্দে শিশুর ভয় বা বিদ্যুৎ চমক

করণীয়:
- বিদ্যুতের আলো বা বাজ পড়ার আওয়াজের ওপর আপনার কোনো হাত নেই । এ সময়ে আপনি যা করতে পারেন তা হচ্ছে ওর মনকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। যেমন— জোরে রেডিয়ো বা টিভি চালিয়ে ওর মনোসংযোগ এসব জিনিসে আনতে পারেন ।
- ওর পছন্দের গান, ছড়া বা গল্প শোনাতে পারেন ।
- ওর সঙ্গে একটু হুটোপুটি খেলতে পারেন ।
শিশুর বিচ্ছেদের দুশ্চিন্তা:
যদিও এখন ওর বয়স একটু বেশি কিন্তু এ সময়ও আপনাদের (বিশেষ করে মাকে) বেশি সময় ধরে ছেড়ে থাকাটাকে শিশু কিছুতেই পছন্দ করে না । পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের কয়েক ঘণ্টার অনুপস্থিতিতে ওর কয়েক ফোঁটা জল পড়েই । শিশুর কান্নার তারতম্য হয় আপনি কখন যাচ্ছেন, কতদূর যাচ্ছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, কখন আসবেন, এসব জানার ওপর । সেজন্য একেবারেই অসম্ভব না হলে আপনার শিশুকে আপনার বাইরে যাওয়ার সঠিক বৃত্তান্ত অবশ্যই জানাবেন ।
করণীয়:
- বাইরে বেরোবার আগে কিছুটা সময় অবশ্যই শিশুর সঙ্গে কাটাবেন । যাওয়ার আগের মুহূর্তে আনন্দময় পরিবেশ রাখা দরকার । বেরোবার মিনিট পনেরো আগেই আপনার পোশাক ইত্যাদি পরে প্রস্তুত থাকবেন, যাতে বেরোবার আগে ওর সঙ্গেই কাটাতে পারেন, কোনোকিছু না জানিয়ে হুট করে বেরিয়ে পড়বেন না ।
- যদি ওকে বলে যান কখন ফিরবেন, অবশ্যই সেই সময়ে ফিরে আসবেন । যদি কোনো কারণে দেরি হয়, টেলিফোন থাকলে ওকে সরাসরি কথা বলে জানিয়ে দিতে পারলে খুব ভালো হয় ।
- বেরোবার সময় ওকে অবশ্য বিদায় জানিয়ে হাত নাড়িয়ে বা চুমু খেয়ে ওর চোখের সামনে দিয়ে বেরোবেন। লুকিয়ে বেরোলে পরবর্তী বেরোনোটা মসৃণ হয় না । কান্না বেড়ে যায় ।
- ওকে না জানিয়ে যাওয়ার ফল ভালো হয় না, তাই ওকে জানিয়েই যাবেন । বেশি সময় বাইরে থাকতে হলে আগের দিন কথাটা বলুন । বেরোবার দিন কয়েক মিনিট আগে থেকে ওকে সাধারণভাবে আপনার যাওয়ার কথাটা বলুন । দেখবেন এতে যাওয়ার সময় ওর কান্না পাওয়ার বদলে ও হয়তো আপনাকে পোশাক ইত্যাদি এগিয়ে দেবে। মনে রাখবেন আপনার গয়নার বাক্সের ওপর ওর কৌতূহল থাকবেই । তাই যদি গয়না নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতে চায়, অবশ্যই আপত্তি করবেন না । ইচ্ছা হলে ওকে জিজ্ঞেসও করতে পারেন— আপনি কোনটা পরবেন । সেক্ষেত্রে অবশ্যই ওর মতের গুরুত্ব আপনাকে দিতে হবে ।
- আপনার শিশু যদি ছোটো হয় ঘড়ির সময় ওর পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় । সেক্ষেত্রে আপনার ফিরবার সময়টা ওকে ওর মতো করে বুঝিয়ে যাবেন । যেমন— টিভির কোন প্রোগ্রামটার সময় আপনি আসবেন এবং ফিরে এসে প্রথমেই আপনার কথার সততার প্রমাণ টিভি প্রোগ্রাম মিলিয়ে দেখিয়ে দেবেন, দেয়ালঘড়ির কাঁটা তখন কোথায় থাকবে, দেখিয়ে ওকে সময় বোঝাতে পারেন ।

