শিশুর পুষ্টি ও সুষম খাদ্য – নিয়ে আজকের আলোচনা। নবজাতকের পুষ্টি ও সুষম খাদ্য বিষয়টি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক একটি গুরুত্বপুর্ন পাঠ।
Table of Contents
শিশুর পুষ্টি ও সুষম খাদ্য

যা খেলে আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে, দেহ সুস্থ-সবল ও নীরোগ থাকে, দেহ ও মনে কাজ করার শক্তি ও উৎসাহ পাওয়া যায়, তাই খাদ্য ।
খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি :
১. দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ : আমিষ
২. কাজ করার শক্তি জোগানো : শর্করা ও চর্বি ।
৩. রোগপ্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যরক্ষা : ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি ।
খাদ্যের বিভিন্ন উপাদানকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায় :
১. আমিষ :
আমিষজাতীয় খাবার শরীরের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে । উৎস : মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিম, মাষকলাই, মটরশুঁটি, বাদাম, বরবটি, ছোলা ইত্যাদি ।
২. শর্করা :
শর্করাজাতীয় খাবার কাজ করার জন্য শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় । উৎস : ভাত, আটা, আলু, কচু, চিনি, গুড় ইত্যাদি ।
৩. চর্বি :
চর্বিজাতীয় খাবার শরীরে কাজ করার শক্তি জোগায় এবং শরীরে শক্তি সঞ্চিত করে রাখে । উৎস : দুধ, মাখন, ঘি, পনির, ডিমের কুসুম, ডালডা, খাবার তেল ইত্যাদি।
৪. ভিটামিন :
ভিটামিন আমাদের দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এক ধরনের জৈব পদার্থ । দেহরক্ষার জন্য খুব কম পরিমাণে ভিটামিন প্রয়োজন হয় । এগুলো শরীরে তৈরি হয় না, তাই খাদ্যের সঙ্গে জোগান দিতে হয় । দেহের বিভিন্ন বিপাকক্রিয়া ও রাসায়নিক পরিবর্তন ভিটামিনের সহায়তায় নিয়ন্ত্রিত হয় ।
৫. খনিজ লবণ :
সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, আয়োডিন, ক্লোরাইড, জিঙ্ক দেহের জন্য দরকারি খনিজ লবণ । ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের গঠনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ।
এদেশের শিশু ও মহিলাদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি খুব দেখা যায়। এতে শরীরে রক্তস্বল্পতা ঘটে। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বিভিন্ন খাবারে প্রচুর পরিমাণে থাকে । আমাদের খাবারে সাধারণত আয়রন, ক্যালশিয়াম, আয়োডিনের অভাব ঘটে থাকে ।

৬. পানি :
বিভিন্ন কাজের জন্য আমাদের বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। বিশুদ্ধ পানি বলতে এমন পানিকে বোঝানো হয়, যে পানিতে কোনো ক্ষতিকর রোগজীবাণু থাকে না । পানি ২০ মিনিট ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করা যায়। এক কলসি (১০ সের) পানিতে চা-চামচের ১ চামচ ফিটকিরি গুলিয়ে অথবা পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ির আধখানা পানিতে ৬ ঘণ্টা রেখে দিলে সহজেই পানি বিশুদ্ধ করা যায় ।
মোটামুটিভাবে সব খাবারেই ভিটামিন, লবণ ও পানি জাতীয় খাদ্যোপাদান বর্তমান থাকে । এগুলো অন্য তিনটি খাদ্যোপাদানকে (আমিষ, শর্করা ও চর্বি) শরীরের কাজে লাগাতে সাহায্য করে । এগুলোর অভাব হলে খাদ্যে যতই আমিষ, চর্বি বা শর্করা থাকুক না কেন, শরীরের কাজে লাগে না । ফলে শরীর ক্রমশ ক্ষয় হয়, কাজের জন্য শক্তি পাওয়া যায় না, শরীর দুর্বল হতে থাকে । এরকম দুর্বল শরীর সহজেই রোগাক্রান্ত হয় । যেহেতু উপর্যুক্ত তিনটি খাদ্যোপাদান রোগপ্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে, সেহেতু এদের আমরা রোগপ্রতিরোধক খাবার বলি ।
