জন্মের পর নবজাতক যদি শ্বাসগ্রহণ করতে না পারা

জন্মের পর নবজাতক যদি শ্বাসগ্রহণ করতে না পারা – বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা” বিষয়ক সিরিজের অংশ।

জন্মের পর নবজাতক যদি শ্বাসগ্রহণ করতে না পারে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

জন্মের পর নবজাতক যদি শ্বাসগ্রহণ করতে না পারে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

১। জন্মের পরপরই নবজাতক যদি না কাঁদে, শ্বাসগ্রহণে সক্ষম না হয় অথবা নীল হয়ে যায়, তাহলে যথাশিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত জরুরি । কেননা, নবজাতক যত দেরিতে কাঁদবে, তত তার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ক্ষতি হয় । কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ক্ষতি হয় অপূরণীয় ।

২।  শিশুর জন্ম যদি হাসপাতাল বা মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও হয়, তাহলে সেসব ক্ষেত্রে নবজাতককে তাড়াতাড়ি নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভালো ।

৩। আশেপাশে যদি হাসপাতালে বা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে নবজাতককে একটি ট্রে বা অন্য কোনো পাত্রে রেখে পায়ের দিক সামান্য উঁচু করে শুইয়ে দিতে হবে। তারপর নরম পরিষ্কার কাপড়, তুলা বা গজ দিয়ে নবজাতকের নাক, মুখ, গলা পরিষ্কার করে দিতে হবে ।

৪। কাপড় বা তুলার সাহায্যে গলা ও নাকের শ্লেষ্মা পরিষ্কার করে নাকে সুড়সুড়ি দেওয়া যেতে পারে । তাছাড়া শরীরের সংবেদনশীল স্থানগুলো (যেমন— মুখ, কান, গুহ্যদ্বার ইত্যাদি) অনবরত কুসুম গরম ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে হবে। এসব প্রক্রিয়ার সাহায্যে শিশু হঠাৎ গভীরভাবে শ্বাস নেয় এবং ক্রমে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে থাকে ।

 

জন্মের পর নবজাতক যদি শ্বাসগ্রহণ করতে না পারে | শিশুর প্রতিদিনের পরিচর্যা

 

 

৫। উপরের ব্যবস্থা অনুযায়ী যদি কোনো সুফল না পাওয়া যায়, তাহলে শিশুর মুখে আপনার মুখ রেখে জোরে জোরে ফুঁ দিতে হবে প্রতি মিনিটে ১৮ থেকে ২৫ বার। নবজাত শিশুর শ্বাস ক্রিয়া চালানোর পক্ষে এ পদ্ধতি খুব কার্যকর । তারপর নবজাত শিশুকে অবশ্যই কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে ।

Leave a Comment