একটি শিশুর মানসিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ১৫ বছর বয়স। এই বয়সে তাদের চিন্তা-ভাবনার গভীরতা, যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও কল্পনাশক্তি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আলফ্রেড বিনে (Alfred Binet) শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নির্ধারণে যে মানসিক পরীক্ষাগুলো প্রস্তাব করেছিলেন, তার কয়েকটি প্রশ্ন ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। নিচে এমনই পাঁচটি পরীক্ষার বিবরণ তুলে ধরা হলো—
Table of Contents
১৫ বছর বয়সে শিশুর বুদ্ধির পরিমাপ
১. কল্পনায় বাস্তব অবস্থাকে অনুধাবনের ক্ষমতা
উপকরণ: দুটি ৬ ইঞ্চি বর্গ কাগজ, পেন্সিল
প্রক্রিয়া: একটি কাগজকে দুইবার ভাঁজ করে চারভাঁজ তৈরি করতে হবে। এরপর যেদিকে একটি মাত্র ভাঁজ আছে, সেদিকে মাঝখানে ১ সেমি গভীর একটি নিম্নশীর্ষ ত্রিভুজ আঁকতে হবে।
নির্দেশ:
“এই কাগজটি কাঁচি দিয়ে এই ত্রিভুজ অংশটি কেটে ফেললে, পরে কাগজটি খুললে সেই কাটা অংশটি কেমন দেখাবে এবং কোথায় পড়বে?”
মূল্যায়ন: শিশু যদি অন্য একটি কাগজে পেন্সিল দিয়ে দুটি ডায়মন্ড আকৃতি আঁকে— যা হবে দুই প্রান্তের মাঝখানে একই অনুভূমিক রেখায়— তবে সে প্রশ্নটির যথাযথ সমাধান করতে সক্ষম।
২. বিমূর্ত শব্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষমতা
নির্দেশ:
“আমি এখন তোমাকে দুটি করে শব্দ বলব। তুমি বলবে, এদের মধ্যে কী পার্থক্য আছে।”
উদাহরণ:
- সুখ ও আনন্দ
- দারিদ্র্য ও দুঃখ
- অভিব্যক্তি ও বিপ্লব
মূল্যায়ন: অন্তত দুটি জোড়ার মধ্যে অর্থপূর্ণ পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে হবে। তুলনামূলক দৃষ্টিকোণ ও স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
৩. স্থানচ্যুত ত্রিভুজের বিন্যাস কল্পনার ক্ষমতা
উপকরণ: কাগজ, পেন্সিল, স্কেল, একটি ১০x১৫ সেমি কার্ড
প্রক্রিয়া: (বিস্তারিত বর্ণনা অনুপস্থিত, সম্ভবত খণ্ডিত ছিল। তবে ধারণাটি হলো ত্রিভুজ স্থানচ্যুত হলে শিশুটি তা কল্পনায় কেমন করে পুনর্বিন্যাস করতে পারে, তা যাচাই করা।)
৪. বিস্তারিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার ক্ষমতা
নির্দেশ:
“আমি একটি অনুচ্ছেদ পড়বো, তুমি মন দিয়ে শুনবে এবং পরে নিজের মতো করে এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য বলবে।”
অনুচ্ছেদ:
“জীবনের মূল্য বিষয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন জীবন ভাল, কেউ বলেন মন্দ। আদতে জীবন মাঝামাঝি। সুখ যেমন সীমিত, তেমনই দুঃখও সীমাহীন নয়। এই ভারসাম্য জীবনকে সহনীয় এবং সুন্দর করে তোলে।”
মূল্যায়ন: শিশুকে নিচের তিনটি মূল বক্তব্য প্রকাশ করতে হবে—
- জীবন ভালো বা মন্দ নয়, মাঝামাঝি অবস্থানে আছে।
- আমরা যতটা ভালো আশা করি, জীবন ততটা নয়।
- অন্যরা আমাদের জন্য যতটা খারাপ আশা করে, জীবন ততটা খারাপও নয়।
৫. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষমতা
নির্দেশ:
“প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে তিনটি পার্থক্য বলো।”
মূল্যায়ন: অন্তত দুটি পার্থক্য স্পষ্টভাবে বলতে হবে—
- প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে।
- রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নির্দিষ্ট, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সংসদের আস্থার উপর নির্ভরশীল।
- রাষ্ট্রপতি হলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, প্রধানমন্ত্রী হলেন বাস্তব কার্যনির্বাহী।
- প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ।
এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে ১৫ বছর বয়সী শিশুর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ, কল্পনা, সংক্ষিপ্ত ভাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রচিন্তার মতো জটিল বিষয়ে উপলব্ধি করার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা যায়। আলফ্রেড বিনের পরীক্ষাগুলো শিশুদের মানসিক বিকাশ অনুধাবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত।
