শিশুর আবেগ ও অনুভব | শিশুর মন ও শিক্ষা

শিশুর আবেগ ও অনুভব : আবেগ ও অনুভব শিশুর জীবনে (সকলের জীবনেই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর ভাললাগা মন্দলাগা, ভয়, রাগদ্বেষ, হিংসা, ঈর্ষা, দুঃখযন্ত্রণা অনুসন্ধিৎসা—সবই জটিল বর্তমানের এবং জটিলতর ভবিষ্যতের কারণ। অবচেতনের কথা মনে রাখলে তো মা-বাবার দুর্ভাবনার আর শেষ থাকবে না। ভরসার কথা এই যে সকল অবদানের চাপেই অবচেতনের অজানা এলাকা পুষ্ট হয় না।

শিশুর আবেগ ও অনুভব

 

শিশুর আবেগ ও অনুভব

একমাত্র সেই সব অবদমন যার মূলে অপরাধ বোধ আছে তারাই অবচেতনে চলে যায় বা তাদের ঠেলে দেওয়া হয়। (জটিল বিষয়। সহজ করে বললে দাঁড়ায় : অবদমন- চেতন মনের কামনা বাসনা বা ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার মধ্যে যাদের পূরণ সম্ভব নয় তাদের চেপে দেওয়া। দমন করা, ঘাড় ধরে নার করে দেওয়া। আমাদের সচেতন মন এটা করে।

ফলে, বিতাড়িত বা অবদমিত ইচ্ছাগুলি আমাদের মনেরই গভীরতর অংশে ডুবে থাকে। হারিয়ে যায় না, ডুবে থাকে মাত্র। অপেক্ষা করে। সুযোগ পেলেই মনের সচেতনে ঢুকে পড়তে চায়। এই অবদমিত ইচ্ছাদের মধ্যে সেই সব ইচ্ছাগুলি যারা অপরাধ বোধের সঙ্গে মিশ্রিত, যৌন বোধ থেকে জাত, অসম্মানজনক আত্ম মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িত তারা মারাত্মক।

ইংরেজিতে প্রথম দলের অবদমনকে Suppression (চেপে দেওয়া) বলেছে; দ্বিতীয় প্রকারের অবদমনকে Repression বলেছে। Freud-এর মতবাদ। (আছে পৃ.-২১, পৃ.-৫১) শিশুর আবেগের জগত তৈরি হয় প্রধানত তিনটি সম্পর্কের উৎস থেকে:

১. পিতা-মাতার সঙ্গে সম্পর্কের উৎসে।

২. পরিবেশের উৎসে।

৩. বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে খেলার উৎসে।

পিতামাতার উৎসে জাত আবেগ বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। শিশুর তত্ত্বাবধান বইতে। এই বইতেও। শৃঙ্খলা আরোপ বিষয়ে আর কিছু কথা বলা দরকার।

শিশুর আবেগ ও অনুভব | শিশুর মন ও শিক্ষা

শৃঙ্খলা বিধান বিষয়ে মা-বাবাদের মধ্যে তিন রকমের মনোভাব আছে:

(ক) কঠোর (authoritarian),

(খ) নরম (permissive) এবং

(গ) খোলামেলা (demo cratic).

(বাংলা শব্দগুলি ইচ্ছে করেই সরল রাখা হলো।) অভিভাবকরা একটু ভেবে চিন্তে ঠিক করে নেবেন কোন রকমটি তারা প্রয়োগ করবেন। দোষগুণের মনোবৈজ্ঞানিক হিসেবে তৃতীয় রকমটি শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। কারণ, মনে করা হয় যে শিশুদের নিয়ম নীতি জানার অধিকার আছে, সেই সব নিয়ম নীতিতে তাদের মতামতের দাম আছে।

অন্ধ অনুসরণ শিশুর বৌদ্ধিক উন্নতির জন্যে ভাল নয়। বড়দের বুঝিয়ে দেবার দায় আছে।—শিশুর বোধবুদ্ধি, জ্ঞানগম্যি মতো করেই সে সব করার কথা। সুশৃঙ্খল করতে যখন শাস্তি ইত্যাদি দেওয়া হয় তখন সেই শাস্তি যে ‘কাজের’ জন্যে ধার্য ‘মজুরি’, ‘প্রাপ্য’ তাও তাদের বোঝা দরকার। তাহলে বিরূপতা বা bad blood তৈরি হয় না। পুরস্কারের বেলাতেও একই নিয়ম। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাজের মূল্য হিসেবে শাস্তি বা পুরস্কার অর্জন করে—এটা মাথায় থাকলে, মাথায় ঢোকাতে পারলে অনেক অকারণ যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। শিশুর বেলায় বড়দের বেলাতেও।

কঠোর শাসনের আওতায় বেড়ে ওঠা শিশুরা বাইরের প্রকাশিত আচরণে, কথায় বার্তায় মান্যতা দেখায় কিন্তু ভিতরে ভিতরে বিপরীত অনুভবের পোষণ করে। এরা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আক্রমণাত্মক এবং ধৃষ্ট ব্যবহার করে। নরম শাসনের ফলে শিশুরা আত্মসর্বস্ব হয়। অপরের ভালমন্দ বিষয়ে অমনোযোগী হয়। উদ্ধত হয়। অ-সামাজিক বা মেলামেশায় অক্ষম হয়। যারা খোলামেলা (গণতান্ত্রিক) শাসনের আওতায় বেড়ে ওঠে তারা সংযত হয়, অপরের প্রতি ব্যবহারে সাবলীল হয়, বিবেচক হয়। ‘খারাপ কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে শেখে, দূরে রাখতে পারে।

২. পরিবেশের উৎস : বহুরকমের আবেগের মধ্যে আমরা ‘ভয়’ নিয়ে প্রধানত কথা বলবো। বস্তুর ভয়, পড়ে যাবার ভয়, অদ্ভুত ব্যক্তি বা বস্তুর ভয়, অপরিচিত লোকের ভয়, কাল্পনিক প্রাণীর ভয়, অন্ধকারের ভয়, একা থাকার ভয়, হারিয়ে যাবার ভয়, বিকট শব্দের ভয়, সপ-ছুঁচো-ইঁদুর-আরশোলার ভয়, বীভৎস দৃশ্যের ভয়, মারামারি ঝগড়াঝাটির ভয়—এরকম কতো ভয়ই তো শিশুকে তাড়া করে। এই সব ভয় ও তার জন্যে শিশুর মনমানসিকতা তৎক্ষণাৎ প্রভাবিত হয়। তার চাইতেও বড়ো কথা ভবিষ্যতের প্রভাব। (আরও আলোচনা আছে পৃ – ৪৮)

এখানে এই ধরণের কয়েকটি ভয় বিষয়ে তথ্য দেওয়া হলো।

প্রথম কলামে অবস্থা বা ভয়ের উৎস, দ্বিতীয়ে ২–৩, ৩–৪, ৪–৫, ৫–৬ বছরের শিশুরা শতকরা কতটা ভয় পায় তার পরিসংখ্যান তুলে দেওয়া হচ্ছে :
১ ————————— ২-৩ ———- ৩-৪ ———– ৪-৫ ————– ৫-৬
একা একা ভয় ————- ১২.১ ———- ১৫.৬ ———- ৭.০ ————– ০ 
পড়ার ভয় —————– ২৪.২ ———- ৮.৯ ———— ০ —————- ০
অন্ধকার ঘরের ভয় ——- ৪৬.৯ —— ৫১.১ ———- ৩৫.৭ ————– ০
অচেনা লোকের ভয় —— ৩১.৩ —— ২২.২ ———- ৭.১ ————– ০
উঁচু থেকে পিছলে পড়ার — ৩৫.৫ —— ৩৫.৬ ———- ৭.১ ————– ০
বিকট শব্দের ভয় ——— ২২.৬ —— ২০.০ ———- ১৪.৩ ————– ০
সাপের ভয় ————— ৩৪.৮ —— ৫৫.৬ ———- ৪২.৯ ————- ৩০.৮
বড় কুকুরের ভয় ——— ৬১.৯ —— ৪২.৯ ———- ৪২.৯ —————
মোট ——————— ৩২.০ —— ৩০.২ ———- ১৮.১ ————– ৪.৫

এই পরিসংখ্যান থেকে অনেক বিষয় জানা যায়। মা-বাবারা ভেবে ভেবে বার করে নিন। তবে একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয় যা এখানে নেই। শৈশবের অনেক ভয় আপাতদৃষ্টিতে শেষ হয়ে যায়। দেখা যাচ্ছে। একমাত্র সাপের ভয় ছাড়া। কিন্তু এই সব ভয়ের অনেকগুলিই কৈশোর-তারুণ্যে ‘বাহিত’ হয় carry over হয়। একইভাবে না হলেও অন্য আকারে, প্রভাবিত আকারে। বলছে—প্রায় শতকরা ২৭ ভাগ জীবনের ভয়ের উৎস আছে এই শৈশবের ভয়ের মধ্যে। যে সব ভয় বড় বেলাতেও থেকে যায় তারা জন্তু জানোয়ারের ভয়, আগুন-রোগভোগ-ডুবে যাবার ভয়, অতি প্রাকৃত অস্তিত্বের ভয় (ভূত-পেত্নির ভয়!) অন্ধকারের ভয়, একা হয়ে যাবার ভয়। এরা সকলেই প্রায় পরবর্তীতে যা উৎকণ্ঠা (anxiety) বলে জানা যাবে তার প্রতিফলনে ঘটে থাকে।

এই ভয় বিষয়ে প্রত্যেক মা-বাবা নিজ নিজ পথ খুঁজে নেবেন। কষ্টের ব্যাপার নেই কোনো। দুটি নীতি মেনে চললেই ভয় দূরে রাখা সম্ভব। করণীয় :

(১) যেখানে ভয় সেখানে শিশুকে ছেড়ে দেবেন না, expose করবেন না। যেমন অবস্থায় ভয়ের জন্ম হতে পারে তেমন অবস্থা থেকে শিশুকে সরিয়ে রাখুন।

(২) উভয় ক্ষেত্রেই – স্থান এবং অবস্থায় একজন অন্তত সঙ্গে থাকুন। আগে থেকে ‘খোলামেলা’ অবস্থার বর্ণনা করে শিশুর মনকে, অনুভবকে তৈরি করে রাখুন। শিশুকে হকচকিয়ে দিতে পারে এমন সুযোগ দেবেন না। আগে থেকে প্রস্তুত থাকাই সভ্যতা, বর্বরতা প্রতি ক্ষেত্রেই অপ্রস্তুত রবীন্দ্রনাথের কথা।

(এখানে প্রাসঙ্গিক নয় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে একবার উল্লেখ করা ভালো : অকৃতকার্যতার ভয় অনেক কিশোর-কিশোরী তরুণ-তরুণীকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। জটিল বিষয়। জটিলতর কারণ আছে। কাল্পনিক লক্ষ্য, কাঙ্ক্ষিত বাসনা, ভিত্তিহীন আত্মবিশ্বাস— মা বাবা নজর রাখুন যেন ওদের জীবন দুঃসহ হয়ে না ওঠে। ওরা বোঝে না। আবেগে অধীর ওরা অকাজ-কুকাজ করে বসতে পারে)।

ভয় এবং তার প্রভাবের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে প্রথমে কয়েকটি অকরণীয় এবং পরে কিছু করণীয় বলা যাক :

এরা অকরণীয় কারণ হিতের চাইতে অহিত সম্ভাবনা বেশি :

১. বারবার এবং বরাবর ভয়কে অগ্রাহ্য করা বা বাতিল বলে গণ্য করা।

২. ভয় পেলে শিশুকে ব্যঙ্গ করা, উপহাস করা। অথবা শাস্তি দেওয়া বা পীড়ন করা।

৩. ভয় ভাঙ্গানোর জন্যে ভয়ের জায়গায় নিয়ে যাওয়া, ঢুকিয়ে দেওয়া। অথবা সেই অবস্থায় ফেলে দেওয়া।

নিচের পদ্ধতি প্রক্রিয়ায় হিতের সম্ভাবনা বেশি। করণীয়ঃ

১. বুঝিয়ে দিন। ব্যাখ্যা করে রাখবেন— বোকামির জন্যে শিশু ভয় এমন যেন বলেন। বরং ভয় পাওয়ার হেতু আছে, যাথার্থ্য্য আছে কিন্তু নেই—এমন করে যেন ব্যাখ্যা হয়।

২. বাস্তব বা কাল্পনিক গল্প-উপাখ্যান বলুন যেখানে কোনো শিশু কি করে গেল, সাহায্য সহায়তা পেল ভয়টা আসলে মনের ভুয়ো।

৩. শিশুকে নিশ্চয়তা দেবার জন্যে সাপেক্ষ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে আরামদায়ক বা পরিচিত উদ্দীপকের মাধ্যমে ঘটনাকে/স্থানকে পরিষ্কার বুঝে নিতে উদাহরণ— অন্ধকার ঘর। একটা বল ছুঁড়ে নিজে গিয়ে সুইচ অন বলটা তুলে আনুন। পরের বার শিশুকে নিয়ে যান। সুইচ অন করান। বল নিক। অথবা, অপরিচিত ব্যক্তি। এগিয়ে গিয়ে করমর্দন করুন, কোলাকুলি করুন। বা অন্য কিছু। শিশু দেখবে। করুন। দেখুক। শিশু পছল করে এমন সেই ব্যক্তি শিশুকে দিক। অপেক্ষা করুন। স্বাভাবিক হতে দিন। আত্মপ্রত্যয় এসে যাবে। সময় দিন rapport তৈরি করতে সুযোগ

৪. শিশুকে সঙ্গ দিন। খেলার মাধ্যমে ভয়ের বস্তু অবস্থাকে সড়গড় করে দিন। ভয় চলে যাবে, স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

৫. গল্প কাহিনী-উপাখ্যান এবং TV-র নির্বাচিত অনুষ্ঠান—বলে অথবা দেখিয়ে ব্যাখ্যা করে শিশুর তৈরি করে দিন।

এবারে উৎকণ্ঠা anxiety. অনেকে বলেন এক কিন্তু এক নয়। সেই বিশ্লেষণে আমাদের কাজ নেই। ভয় উৎকণ্ঠা মনের মধ্যে অস্বস্তিকর অনুভব তৈরি করে। ভয়ানক কিছুর সম্ভাবনা, বিপদের গন্ধ। শরীরের পরিবর্তন ঘটে—স্বয়ং ক্রিয় নার্ভতন্ত্র, গ্ল্যান্ড-ক্ষরণ এবং সুতরাং হৃদযন্ত্রের দ্রুততা, ক্রিয়ার অবনমন, তালু ঘেমে ওঠা ইত্যাদি। এবং আরও নানারকমের ব্যাপার ঘটে মনে শরীরে।

ভয় আর উৎকণ্ঠার একটা প্রধান তফাত : প্রধানত বিষয়গত (বাইরের) উদ্দীপনা থেকে জন্মায়, উৎকণ্ঠা প্রধানত বিষয়ীগত (মনের ভিতরের) উদ্দীপনা গজায়। প্রাধান্য দিয়েই চেনা গেল। কুকুর দেখলে ভয় পাই। কিন্তু কি করব? কোনভাবে এড়াবো? অকারণ পাচ্ছি কি? এখানে এসেছি বলে সব inner conflict জন্যে মনের মধ্যে যখন বিভিন্ন অনুভবের সংঘাত ঘটে, আকাঙ্ক্ষার বৈপরিত্য ঘটে, অসহায়তা অসংলগ্ন প্রবণতারা মুখোমুখি আন্তর সংঘাত ঘটে। উৎকণ্ঠা।

শিশুমনের এই ধরনের সংঘাতগুলোর প্রধান প্রধান কারণ—

১. কোনো কিছুর প্রতি শিশুর ঝোঁক। মা-বাবার বাধা। পরিবেশের বা দেহজ বাধা।

২. ইচ্ছা পূরণের চেষ্টা। কামনা-বাসনার তীব্র চাপ। অপুরণ।

৩. কিছু করতে চায়, পেতে চায়, নিতে চায়। কিন্তু সেগুলি নিষিদ্ধ।

৪. ঔৎসুক্য, অভিযান, প্রচেষ্টা। শিশু বোঝে না কিন্তু বিপদ আপদের জন্যে বাধা।

৫. শিশুদের চাইগুলো বেশি, সদর্থক। বড়দের ‘না’ গুলো বেশি।

৬. যৌন অঙ্গাদি বিষয়ে ঝোঁক। ভৎসনা।

৭. সামাজিকতার চাপে শিশুমনে এক ধরনের ন্যায়-নীতি বোধ, নিয়ম-কানুনের জ্ঞান উপ্ত হয়। তার মনের মধ্যে অন্যরকমের স্বতোৎসারিত প্রবণতা, প্রবৃত্তি ঠেলে ওঠে। প্রকাশ পেতে চায়। দ্বিখণ্ডিত অনুভব, দ্বিধাবিভক্ত মানসিকতার চাপ তৈরি হয়।

৮. উপরের ৭ এর কারণে নিজের মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ গজিয়ে ওঠে। নিজের কারণেই, নিজের মনোভাবের জন্যেই।

৯. শিশুরা হয় Possessive – অধিকার সচেতন। মা বাবার উপর, অথবা খেলার পুতুল, ছবির বই। সব কিছুর উপরই তার একক অধিকার। যেমন মা তার বাবাও তার নিজের সম্পত্তি। পুতুল। বই-জামা-টুপি। সবই তার নিজস্ব। এবারে মা যখন বাবাকে, বাবা যখন মাকে ভালবাসেন, যখন অন্য কোনো বাচ্চাকে তাঁরা ভালবাসেন তখনই শিশুর ‘মাথায় বাজ পড়ে। রাগ হয়। ক্রোধে ণত্ব ষত্ব বোধ হারাতে পারে। প্রতিশোধ! কান্নাকাটি, ভাঙচুর, চেঁচামেচি। যখন আরও বড় হবে তখন বাইরে প্রকাশ ঘটবে না, ভিতরে ভূমিকম্প ঘটে যাবে।

১০. আস্তর সংঘাতের আরও কারণ ক্রমশ ঘটতে থাকে। সে অপরের উপর নির্ভর করতে চায় আবার স্বাধীন থাকতে চায়। মানতে চায় আবার নির্দেশ অমান্যও করতে চায়। সে ভাল ছেলে হতে চায়। (গোপাল অতি সুবোধ বালক ইত্যাদি) আবার নিজের নিজস্বতা প্রতিষ্ঠাও করতে চায়। সে অনেক কিছুই পারতে চায় পেতে চায়, কিন্তু সেই পাওয়ার জন্যে সময় ও শ্রমের মূল্য দিতে চায় না।

এই সব বৈপরিত্য আর সংঘাতের জন্ম মনের গভীরে। বিষয়ীগত। এ সবই স্বাভাবিক। প্রাকৃতিক কারণেই ঘটে। মা বাবা চেষ্টা করলে এই সংঘাতকে সহনীয় মাত্রা দিতে পারেন, তীব্রতার হ্রাস ঘটাতে সাহায্য করতে পারেন। খোলামেলা’ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সময় বুঝে, শিশুকে বুঝিয়ে দেওয়া ভালবাসার সঙ্গে, পিয়ারসে। বোঝাতে পারেন যে এই ধরনের সংঘাত স্বাভাবিক, সকলেরই হয়। এদের ধীরে ধীরে পার হতে হয়। অপরাধ বোধের কোনো হেতু নেই। নিজেকে সুপথে, সঠিক পরিচালিত করার দায় আছে, কারণ আছে, পথ আছে।

[বাইরের আর ভিতর মনের সংঘাত, সামাজিকীকরণের চাহিদা আর নীতিবোধ শৃঙ্খলা পরায়ণতার দাবি, এবং ক্রমশ টের পাওয়া শিশুর সংকট—নিজের অবস্থা যোগ্যতা আর মা-বাবার আকাঙ্ক্ষা-লক্ষ্য—সব মিলে শিশুর অস্বস্তি। এখানে Freud-এর Psychoanalysis বুঝে নিতে পারেন যাঁরা আরও জানতে চান। অথবা স্বীকৃত যে কোনো Child Psychology বা Developmental Psychology-র বই দেখে নিতে পারেন। ফ্রয়েডীয় ধারণাগুলির বিষয়ে আগে একবার বলা হয়েছে-Id, Ego, Super ego. The Unconscious, Pre-conscious Conscious. Causation, significance, Economy Libido & Polaritics.

আরও পড়ুন:

 

“শিশুর আবেগ ও অনুভব | শিশুর মন ও শিক্ষা”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন